বাংলাদেশের শ্রমিকদের মর্যাদার প্রশ্নকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবে ওয়ালমার্ট

0
75

আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন স্বীকার করে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পসহ আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইনের শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়কে সংস্কার পরিকল্পনায় সবচেয়ে প্রাধান্য দেওয়ার কথা ভাবছে তারা। নতুন করে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়ালমার্ট

সম্প্রতি এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্নেন্স রিপোর্ট-২০১৯ প্রকাশ করে ওয়ালমার্ট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাপ্লাই চেইনের পুরো ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজন স্বীকার করে স্টেকহোল্ডারদের একত্রিত করতে নিজেদের সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে চাইছে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সাল নাগাদ অন্ততপক্ষে ১০টি খুচরা সাপ্লাই চেইনের শ্রমিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। বর্তমানে বাংলাদেশি পোশাক ও থাইল্যান্ডে প্রক্রিয়াজাতকৃত টুনা মাছসহ পাঁচটি খুচরা সাপ্লাই চেইনের শ্রমিকরা ওয়ালমার্টের তালিকায় আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সামাজিক স্থায়িত্ব যখন দীর্ঘ মেয়াদে জটিলতার মধ্যে আছে, তখন বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনগুলোর প্রয়োজন গোটা ব্যবস্থার পরিবর্তন করা। এক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সরকারি, খুচরা বিক্রেতা ও অন্যদেরকে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে ওয়ালমার্ট। অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ ডাটা বিশ্লেষণের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। বহিঃস্থ তথ্যের মধ্যে রয়েছে, বিশ্ব ব্যাংকের বৈশ্বিক সূচক এবং সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের মতো নথিগুলো।

শ্রমিকদের অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে এমন কাঠামোগত ইস্যুগুলো আরও বিস্তৃত পরিসরে মোকাবিলা করতে অন্য কোম্পানি, এনজিও এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যেতে চায় ওয়ালমার্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আশা করি আমাদের কাছে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করবে।’

ওয়ালমার্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘আমাদের আকার ও বৈশ্বিক পদাঙ্ক বিবেচনার ভিত্তিতে সাপ্লাই চেইনের অবস্থার উন্নয়নে নিজেদের ক্রয় ক্ষমতাকে ব্যবহারের অনন্য সুযোগ রয়েছে ওয়ালমার্টের।’ 

রানা প্লাজা ভবন ধসের পর পোশাক কারথানাগুলোতে নিরাপত্তা ও যথাযথ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে এইচ এন্ড এম এর নেতৃত্বে এবং আদিদাস, বেনেটন, মার্কস অ্রান্ড স্পেনসার, টেসকোসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় একটি জোট গঠিত হয়। অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্রান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ নামের ওই জোটে অন্তভূক্ত হতে অস্বীকৃতি জানায় গ্যাপ, টার্গেট এবং ওয়ালমার্টের মতো আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের পক্ষ থেকে বিকল্প হিসেবে অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি নামের সংগঠনটি গড়ে তোলা হয়। ২০১৩ সালে গঠিত অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ওয়ালমার্ট। ১৬ লাখ শ্রমিককে অগ্নি নিরাপত্তাজনিত প্রশিক্ষণ প্রদানের দাবি করে থাকে তারা। ২০১৮ সালে অ্যালায়েন্সের কাজ শেষ হওয়ার পর ওয়ালমার্ট জানিয়েছিল বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা নিবেদিত থাকবে।