রানা প্লাজার উদ্ধার কর্মী ‘হিরো’ হিমু’র আত্মহত্যা

0
245

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন রানা প্লাজা দর্ূুটনায় উদ্ধার কর্মী যুবক নওশাদ হাসান হিমু (২৭)। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিরুলিয়ার শ্যামপুর এলাকায় তার ভাড়া বাসা আবদুল হক মোল্লার বাড়িতে গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেন হিমু।

তিনি সাভারে রানা প্লাজা ভবন দুর্ঘটনার একজন উদ্ধার কর্মী ছিলেন। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রানা প্লাজার উদ্ধার কর্মী নামের সংগঠনের সহ-সভাপতি খন্দকার হসিবুর রহমান লেবু। এ ছাড়া তিনি বাম সংগঠন গণসংহতি আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বিভিন্ন ছবিতে তাকে সংগঠনের নেতা জোনায়েদ সাকীর পাশে রাজপথে ও রামপাল লং মার্চে দেখা গেছে। তার ফেস বুক ওয়ালে এ ছবি বিদ্যমান।

স্থানীয়রা জানান, হিমু প্রায় ৩ বছর ধরে নেশায় আসক্ত ছিলেন। হিমালয় হিমু নামের তার ভেরী ফাইড ফেইস বুক আইডিতে নিজের পোস্ট করা ছবিতে তাকে নেশা জাতীয় নানা দ্রব্য সেবন করতে দেখা গেছে। তিনি বরিশালের উজিরপুর থানার বাবর গ্রামের সরদার আবুল হোসেনের ছেলে।
রানা প্লাজার ভবন ধসের সময় উদ্ধার কর্মী হিমু মাঝে মধ্যেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতেন। বুধবার রাত সাড়ে নয়টারদিকে বাড়ির পাশে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজগর আলী বলেন,‘ হিমুর লাশ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারেনি। তিনি বন্ধু-শুভানুধ্যায়ীদের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘হিমালয় হিমু’ নামে।


সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফ এম সাঈদ বলেন আমরা স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। প্রাথমিকভাবে জান গেছে, মানসিক ভারসাম্যহীন ও কুকুর নিয়ে দিন রাত কাটাতেন হিমু। নিজের গায়ে নিজে কেরাসিন তেল ঢেলে পুড়ে মারা যান তিনি। তিনি ৩ বছর ধরে এখানে বসবাস করতেন। আমরা যতটুকু জেনেছি হিমু কারও সঙ্গে তেমন মিশতেন না।
এদিকে হিমুর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘হিমালয় হিমু’তে গিয়ে দেখা যায়, বুধবার রাতে আত্মহননের আগে তিনি ফেসবুকে কয়েকটি পোস্ট দেন। এর মধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেওয়া একটি পোস্ট ছিল, ‘ছোটকাল থেকেই আগুন আমার অনেক পছন্দ’।

পরিবার ও বন্ধুবান্ধব সূত্র জানায়, এটি হিমুর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল ছিল। বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটে পোস্ট করা হয়, এমনি করেই যদি শেষ হোক না”। আবার সন্ধ্যা ৭টা ৮ মিনিটে পোস্ট আসে “ছোট বেলা হইতেই আগুন আমার অনেক পছন্দ”। ৭টা ২৮ মিনিটে একই পোস্ট আবারও করা হয়। এরপর রাত ৯টা ১১ মিনিটে পোস্ট আসে, “আগুনসর্বগ্রাসি তাই ভালোবাসি।” রাত ৯টা ২২ মিনিটে লেখা হয় “কোন মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। রাত ৯টা ২৬ মিনিটে হিমুর আইডি থেকে “জয় বাংলা প্যারা নাই” পোস্ট করা হয়। আর ওটাই ছিল সর্বশেষ পোস্ট।

পরিবার সূত্র জানায়, হিমু সাভারের রানা প্লাজার আহত শ্রমিক নিয়ে ব্যথিত ছিল। মাঝেমধ্যেই সে ওই ঘটনা নিয়ে আবেগপরায়ণ হয়ে পড়ত। লাশের গন্ধ আসে ভেবে সে রানা প্লাজার ঘটনার পর কখনো শরীরে পারফিউম ব্যবহার করেনি।

তার মৃত্যুর খবরে অ্যাক্টিভিস্ট কল্লোল মোস্তফা ফেসবুকে লেখেন, ‘কিভাবে সম্ভব! কেন এরকম করল হিমু? রানা প্লাজার উদ্ধার তৎপরতায় যে মানুষগুলোকে সত্যিকারের হিরো মনে হয়েছিল, হিমু ছিল তার মধ্যে অগ্রগামী। এত সিরিয়াস ও ডেডিকেটেড ছিল! ধ্বংসস্তূপের যে গভীরতায় কেউ ঢুকতে সাহস করতো না, হিমু অবলীলায় সেখানে চলে যেত আহত-নিহত মানুষদের উদ্ধার করতে। হি ওয়াজ রিয়েলি মাই হিরো।