ধামরাইয়ে ঘুষের টাকা আদায় করতে শিক্ষককে মারধর

0
169

ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে এক শিক্ষকের স্ত্রীকে বদলি করার শর্তে শিক্ষক দয়াল বিশ^াসের সঙ্গে অন্য এক শিক্ষক জগবন্ধু সরকারের ঘুষের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী দয়াল বিশ^াস ঘুষের সব টাকা পরিশোধ করলেও বদলি করাতে ব্যর্থ হন জগবন্ধু সরকার। এরপরও জগবন্ধু অতিরিক্ত ঘুষ দাবি করেন দয়ালের কাছে। তা দিতে অস্বীকার করায় দয়ালকে মারপিট করে জগবন্ধু। এ ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেও তারা দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মোড়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দয়াল বিশ^াসের স্ত্রী চরচৌহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক কল্পনা রায়কে শোলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করে দেওয়ার শর্তে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষের চুক্তি হয় মাকরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জগবন্ধু সরকারের সঙ্গে। চুক্তি অনুযায়ী সব টাকা পরিশোধ করা হলেও শোলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করাতে ব্যর্থ হন জগবন্ধু। এক পর্যায়ে কল্পনা রায় বেরশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ঊর্মি আক্তরের সঙ্গে পারস্পরিক বদলির (মিউচুয়াল ট্র্রান্সফার) আবেদন করেন। এক পর্যায়ে তাদের বদলির আদেশও দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসী শিখা।
এদিকে পারস্পরিক বদলিটা জগবন্ধু করিয়ে দিয়েছে বলে আরো ৩১ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে দয়াল বিশ^াসের কাছে। এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় গত ১১ এপ্রিল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কক্ষে দয়াল বিশ^াসকে মারপিট করে জগবন্ধু সরকার। এসময় ওই কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সস্পাদক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোমিনুর রহমান, শিক্ষক লিটন সরকারসহ অন্যান্য শিক্ষক দয়ালকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দয়াল বিশ^াস লিখিত অভিযোগ দিলেও গত ১৫ দিনেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী রাশেদ মামুন।
ঘটনার ১৫ দিন পর আজ বৃহস্পতিবার অফিসের ভিতর মারপিটের ঘটনা স্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী রাশেদ মামুন বলেন, দুই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী দয়াল বিশ^াস জানান, আমার স্ত্রী কল্পনা রায়কে বদলি করে দেওয়ার কথা বলে ‘বদলি প্রস্তাবনায়’ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সুপারিশ, মন্ত্রী-সচিবদের বাসায় মাছ, দুধ, সবজি নেওয়ার কথা ঘুষ বাবদ পর্যায়ক্রমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় জগবন্ধু বিশ^াস। কিন্তু আমার স্ত্রীকে বদলি করাতে ব্যর্থ হন তিনি। এরপরও আরো ৩১ হাজার ঘুষ দাবি করে। না দেওয়াতে আমাকে মারপিট করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কক্ষে। এ বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রবিউল করিম বলেন, শিক্ষা অফিসে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যান্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম বলেন, উপজেলার শিক্ষকদের মধ্যে বদলি বাণিজ্য নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। তবে আমি এখনো অভিযোগ পায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসী শিখা বলেন, ঘুষের টাকা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে এটা আমাকে কেউ জানায়নি। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক ইন্দুভূষণ দেব বলেন, বদলি হতে কোন ঘুষ লাগে না। এছাড়া দুই শিক্ষকের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে কেউ আমাকে বলেনি। তবে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ২০১৭ সালে জগবন্ধু সরকার দয়াল বিশ^াসের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তার স্ত্রী কল্পনা রায়কে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহনতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বদলি করে আনেন চরচৌহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ওই সময়ও শুলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কল্পনা রায়কে বদলি করার শর্ত ছিল জগবন্ধুর সঙ্গে।