এবার যৌথ অংশীদা‌রি‌ত্বে বিদ্যুৎ‌কেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহ দেখা‌লো ‘ব্ল্যাক‌স্টোন’

0
29

বিশ্বখ্যাত অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তারা সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৬০০ মেগাওয়াটের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ব্ল্যাকস্টোন বলছে, তাদের নবগঠিত কোম্পানি জারো লিমিটেড এর সঙ্গে দেশের রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) যৌথভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করবে। পরে জ্বালানির নিশ্চয়তা পেলে এটিকে এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে উন্নীত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জারো।

ব্ল্যাকস্টোন বলছে, জারো তাদের নবগঠিত কোম্পানি। বিদ্যুৎ এবং জ্বালানিখাতের পাশাপাশি তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কাজ করতে চায়। মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার একাংশের পাশাপাশি এই অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও কাজ করতে আগ্রহী জারো।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগে চিঠি দিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে ব্ল্যাকস্টোন । প্রস্তাবপত্রে বলা হয়েছে, কেন্দ্রটি তারা মিরেরসরাই অথবা বোয়ালখালীতে করতে চায়। এই অঞ্চলে মূলত এলএনজি আমদানি করেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাসের সংস্থান করা হবে। ইতোমধ্যে দেশে এলএনজি ব্যবহার শুরু হওয়ার পর এখানে এলএনজি চালিত কেন্দ্র নির্মাণের ‍উদ্যোগের কথা বলছে অনেক কোম্পানি।

চিঠিতে তারা জানায়, গত এক দশকে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে তা দেখে তারা এই ধরনের কেন্দ্র বাংলাদেশে করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমান সরকারের আমলে জ্বালানিখাতে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তির দিক থেকে শক্তিশালী কোম্পানিকে দীর্ঘমেয়াদে কাজ দিতে চায়। জারো বা ব্ল্যাকস্টোন বাংলাদেশের এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের জ্বালানিখাতের উন্নয়নে কাজ করতে চায়।

প্রসঙ্গত, ব্ল্যাকস্টোন বিশ্বের সম্পদশালী কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি। কোম্পানিটির সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৭২ বিলিয়ন ডলার। ১৯৯৭ সাল থেকেই তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার জ্বালানিখাতের জন্য বিনিয়োগ করেছে অথবা চুক্তি করেছে। ব্ল্যাকস্টোন সারা বিশ্বে অর্থলগ্নীকারী হিসেবে প্রসিদ্ধ কোম্পানির একটি।

রো বিদ্যুৎ উৎপাদন (থার্মাল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি) ছাড়াও সঞ্চালন, তেল-গ্যাসের অবকাঠামো বিশেষ করে এলএনজি টার্মিনাল, তেলের মজুতগার, গ্যাসের পাইপলাইন নির্মাণের কাজ করে থাকে। তারা জানায়, তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সম্পদের পরিমাণ এবং কাজের সম্ভাব্য শর্তগুলো।
এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি তারা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছে। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোম্পানিটি তাদের এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট আরপিজিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে জমা দিয়েছে। তারা এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি ১০০ মেগাওয়াটের আরও একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র আরপিজিসিএল সঙ্গে যৌথভাবে করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। জারো নিজের অবস্থান সম্পর্কে বলেছে,  কোম্পানি হিসেবে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রযুক্তিগত যোগ্যতা ও সক্ষমতা তাদের যেমন আছে তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও তারা শক্তিশালী। কেন্দ্র স্থাপনের সব ধরনের সহযোগিতা তারা করবে এবং এরইমধ্যে ডিএলআই এর প্রাথমিক সম্পত্তিপত্রও তারা কোম্পানিটিকে দিয়েছে। এছাড়া এডিবি, এআইআইবি এবং সিডিসি গ্রুপ তাদের কেন্দ্রের জন্য টাকা দিতে প্রস্তুত আছে বলে জারো জানায়।

আরপিসিএল দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানির মধ্যে ভালো অবস্থানে রয়েছে। দেশে নিজস্ব উদ্যোগে কয়েকটি কেন্দ্র নির্মাণের পর চীনের নোরিনকো পাওয়ারের সঙ্গে তারা একটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে। এর বাইরে তারা এলএনজি চালিত কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে।

ব্লাকস্টোন এনার্জি

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান,বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থ একটি বড় বিষয়। এমন অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান যদি বিনিয়োগ করতে বাংলাদেশে আসে সেটি এ খাতের জন্য লাভজনক হবে।

জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, এখন বিদ্যুৎখাতের অবস্থা ভালো। আমাদের এখানে বিশ্বের অনেক বড় বড় কোম্পানি বিনিয়োগ করতে আসছে। আমরা বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানাচ্ছি। তবে একইসঙ্গে দেখছি এই বিনিয়োগ আমাদের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনবে। আমরা যদি মনি করি আমাদের জন্য এই বিনিয়োগ লাভজনক হবে তবেই আমরা তা গ্রহণ করছি। নিঃসন্দেহে এই প্রস্তাব ভালো। তবে এখন আলোচনার বিষয় রয়েছে।শুধু কোম্পানির সঙ্গে ন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গেও আলোচনার বিষয় আছে। অনুমোদনেরও একটি বিষয় রয়েছে।