রক্তচাপ মাপার যন্ত্রটি নির্ভুল তো?

0
190
রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্রটি এবং পরিমাপের কৌশল ত্রুটিমুক্ত হতে হবে।

‘হাইপারটেনশন’ অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ আমাদের দেশে এখন ঘরে ঘরে দেখা যায়, যা হৃদরোগ, ‘হার্ট অ্যাটাক’, ‘স্ট্রোক’ ইত্যাদি প্রাণঘাতি শারীরিক জটিলতার অন্যতম প্রধান কারণ। আর তাই প্রতিটি সচেতন পরিবারের উচিত হাতের কাছে একটি রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্র রাখা।

তবে যে যন্ত্রটি দিয়ে রক্তচাপ মেপে নিশ্চিন্ত হবেন তা কতোটুকু নির্ভুল সেটা কখনো ভেবেছেন? আর আপনার রক্তচাপ মাপার কৌশলে ভুল হচ্ছে কি না সেটাই বা কিভাবে বুঝবেন? একাধিক ভারতীয় চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট অবলম্বনে বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত জানানো হলো।

যন্ত্র আসলে কতটা সঠিক?

ভারতের ইন্দ্রপ্রষ্ঠ অ্যাপোলো হাসপাতালের ‘ইন্টারনাল মেডিসিন’ বিভাগের জেষ্ঠ্য পরামর্শদাতা ডা. তারুন সাহনি বলেন, “বাজারে যেসব রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্র পাওয়া যায় তা অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি, তাই সেগুলোতে কোনো সমস্যা নেই। আজ থেকে দুই থেকে তিন বছর আগে যেসব যন্ত্র পাওয়া যেত সেগুলোর তুলনার এখনকারগুলো অনেক বেশি নির্ভুল। সবকিছুই নির্ভর করে তা ব্যবহার করতে ব্যবহারকারীরা কতটুকু পারদর্শী তার উপর।”

এই চিকিৎসকের মতে, “বেশিরভাগ মানুষ এই যন্ত্রগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানেন না, ফলে পরিমাপের ফলাফল ভুল হয়। আদর্শ রক্তচাপের মাত্রা, কিভাবে তা মাপতে হয়, ঠিক কোন জায়গায় যন্ত্রের ‘বেল্ট’টি বাঁধতে হবে, তার আগে কতক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে, সঠিক রক্তচাপ পেতে কোন বিষয়গুলো নিয়ে সাবধান হতে হবে প্রতিটি বিষয় অবশ্যই জানতে হবে।”

ভারতের ম্যাক্স হাসপাতালের ‘ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. রোমিল টিক্কু বলেন ভিন্ন কথা। তার মতে, “‘ডিজিটাল’ রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্রগুলোর উপর বেশি ভরসা করা উচিত হবে না। রক্তচাপ নিজে মাপলে যদি বেশি আসে তবে অভিজ্ঞ ব্যক্তি দ্বারা আরেকবার মেপে দেখতে হবে। হাতে গোনা কয়েকটি ‘ব্র্যান্ড’য়ের যন্ত্রই শুধু ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ নির্ভুল পরিমাপ দিতে পারে।”

রক্তচাপ মাপার পদ্ধতি:

ডা. সাহনি বলেন, “সঠিক ফলাফল পেতে হলে রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্রের ‘বেল্ট’টি বাঁধতে হবে ‘ব্রাকিয়াল আর্টারি’য়ের উপর। বেল্টে বাতাস ভরা এবং ছাড়া দুটোই ধীরে করতে হবে, নয়ত ভুল ফলাফল আসবে।”

মাথায় রাখতে হবে আরও কিছু বিষয়:

– রক্তচাপ মাপার আগের ৩০ মিনিটের মধ্যে কফি, মদ ও ধূমপান করা যাবেনা।

– মাপার আগে ১০ মিনিট চুপচাপ পিঠে হেলান দিয়ে এবং পা মাটিতে রেখে বসে থাকতে হবে।

– মাপার সময় কোন কিছুর উপর এমনভাবে কনুই রাখতে হবে যাতে তা হৃদযন্ত্রের সমান্তরালে থাকে।

– রক্তচাপ বেশি আসলে ঘাবড়ে যাওয়া কোনো কারণ নেই। শান্তভাবে কিছুক্ষণ বসে থেকে আবার মেপে দেখতে হবে।

– কয়েকবার মাপার পরও যদি রক্তচাপ বেশি হয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজের মন মতো ওষুধ খাওয়া চলবে না। নিজের রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্রটি যাচাই করতে চাইলে তা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে পারেন।