জনবল সংকটে এনআইডি বিভাগ, ভোগান্তিতে সাধারণ জনগণ

0
133

 নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২০০৮ সালে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা শুরু করার পর থেকেই নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে জাতীয় পরিচয় পত্র অনুবিভাগে। সম্প্রতি এ জটিলতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জনবল সংকটের কারণেই মূলত এ বিভাগের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে প্রতিদিন। আর এতে জাতীয় পরিচয় পত্র তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ জনগণ। যদিও ইসি জাতীয় পরিচয় পত্র অনুবিভাগের কাজের গতি আনতে আরও ২’শ নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়েছিলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। তবে এখনও অনুমোদন মেলেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে।

এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব ও এনআইডি বিভাগের পরিচালক আব্দুল বাতেন বলেন, কিছু পদের অনুমোদন দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আর এনআইডির ২৭৭টি পদের জন্য পুনরায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশাকরি দ্রুতই অনুমোদন মিলবে। এতে লোকবল ও কাজের গতি বাড়বে।

ইসির এনআইডি অনুবিভাগটি মূলত ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের সময় যাত্রা শুরু করে। এরপর সেই অনুবিভাগ থেকেই দেওয়া হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র। বর্তমানে স্মার্টকার্ডও দিচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সব কারিগরি সহায়তাও দিচ্ছে এনআইডি অনুবিভাগ। নাগরিক পরিচয় নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, টেলিযোগযোগ খাত, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতকে সহায়তাও করছে এ বিভাগ।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশে ভোটার তালিকা প্রণয়ন, এনআইডি সরবরাহ, সংশোধন, তথ্য যাচাই করার জন্য অনুবিভাগটি মাত্র ৭৪ জন লোকবল দিয়ে কাজ চালাচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে রয়েছে একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। কিন্তু বিশাল এই কর্মযজ্ঞের জন্য এতো অল্প লোকবল থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে জনসাধারণও পড়ছেন ভোগান্তিতে।

ইসির প্রস্তাবনা থেকে জানা যায়, মাঠ পর্যায়ে কাজে গতি আনার জন্য ৬৪ জেলায় ১২৮টি অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নতুন পদ সৃষ্টির প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিদ্যমান ৮৩টি নির্বাচন কর্মকর্তার পদ বিলুপ্তি কথা বলা হয়েছে। আর এনআইডি অনুবিভাগের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদসহ ২৭৭টি পদ সৃষ্টি প্রয়োজন। এ প্রস্তবনায় রয়েছে এনআইডি অনুবিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদ (গ্রেড-৩) ২টি, প্রিন্সিপাল মেইন্টেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার (গ্রেড-৩) ১টি, সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট (গ্রেড-৪) ১টি, সিনিয়র মেইন্টেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার (গ্রেড-৪) ১টি, পরিচালক (গ্রেড-৫) ১০টি, সিস্টেম অ্যানালিস্ট (গ্রেড-৫) ১টি, উপ-পরিচালক (গ্রেড-৬) ৮টি, মেইন্টেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার (গ্রেড-৬) ৫টি, প্রোগ্রামার (গ্রেড-৬) ৬টি, সহকারী পরিচালক (গ্রেড-৯) ১৬টি, সহকারী প্রোগ্রামার (গ্রেড-৯) ৬টি, সহকারী মেইন্টেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার (গ্রেড-৯) ৬টি। এছাড়াও প্রশাসনিক কর্মকর্তা (গ্রেড-১০) ৩৯টি, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (গ্রেড-১০) ১৯টি, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৬) ২৩টি, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (গ্রেড-১৬) ৮০টি, গাড়ীচালক (গ্রেড-১৬) ২৪টি ও অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) ২৯টি পদ।