সাভারে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কবির হত্যায় ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৫

0
174

স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে নিখোঁজের ৩দিন পর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হুমায়ন কবির সরকারের লাশ নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাংলা নববর্ষের প্রথমদিন রবিবার (১৪ই এপ্রিল) সকাল ৮ টায় সাভারের ধলেশ্বরী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় নিহত হুমায়ন কবির সরকারের লাশটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ১১ই এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হয় সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি হুমায়ন কবির সরকার। হুমায়ন কবির সরকার রাজফুলবাড়ীয়া এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদি হয়ে ৩৬ জনকে আসামী করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তাদের মধ্যে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সাভার মডেল থানার এসআই সেলিম রেজাকে।

নিহতের পরিবার জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কৌশলে গত বৃহস্পতিবার (১১ই এপ্রিল) স্থ্রাণীয় ফারুক হোসেন পারভেজসহ সন্ত্রাসীরা হুমায়ন কবির সরকারকে রাজফুলবাড়িয়ার পানপাড়া এলাকায় নদীর পাড়ে ডেকে নিয়ে যায়। পরে নদী পাড়েই সন্ত্রাসীরা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে এলোপাথারীভাবে কোপাতে কোপাতে একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকায় তুলে মাঝ নদীতে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলো সে। এঘটনার পর নিখোঁজ হুমায়ন কবিরকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল ও সাভার মডেল থানা পুলিশ দফায় দফায় নদীতে তল্লাশী অভিযান চালানোর পর পরিশেষে রবিবার সকালে ভাসমান অবস্থায় নিখোঁজের লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্ত হচ্ছেন সাভার মডেল থানার এসআই সেলিম রেজা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ মোট জনকে আটক করছে পুলিশ।


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানা পুলিশের চামড়া শিল্প (ট্যানারী) পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম নবী জানান, “নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।”

এমন পরিস্থিতিতে ঘটনার তিনদিন পর রোববার সাভারের ধলেশ্বরী নদীতে ভেসে ওঠে নিহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হুমায়ুন কবিরের লাশ। এরপর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।


সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে ভরারী এলাকার নিজ বাড়ি থেকে পানপাড়া এলাকায় মোবাইল ফোনে ডেকে নেন ওই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী পারভেজ ও তার সহযোগীরা। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। রোববার সকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিসেন্সের উদ্ধার কর্মীরা ধলেশ্বরী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি আরো বলেন, কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিল। দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


হুমায়ুন কবির সরকারের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য পুলিশ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মরদেহের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর শুক্রবার রাতে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত নৌকার মাঝি ও তার সহকারীসহ
৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হুমায়ুন কবির সরকারকে হত্যাকান্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগমের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে স্থ্রাণীয় আমিনুল, পারভেজ, আলম, আলমগীর, শুকুর ও হান্নান তার স্বামীকে মোবাইল করে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে স্থ্রাণীয় মাছ বাজারে নিয়ে ১০ থেকে ১২ জন মিলে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে কবির পার্শ্ববর্তী ধলেশ্বরী নদীতে ঝাঁপ দেয়। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ট্রলারে করে তারা নদীতে নেমে তাকে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে ভারী বস্তুর সঙ্গে লাশটি বেঁধে ডুবিয়ে দেয়।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সাইদুর রহমান বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হত্যাকা-ে তার ভাই বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’