সাভারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

0
125

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে মহসিন খান নামের (২৪) এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নববর্ষের প্রথমদিন রবিবার দিবাগত রাত ৮টারদিকে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের চৌরঙ্গী মার্কেটের সামন থেকে তাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরহ চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবক সাভার উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়নের পানধোয়া এলাকার সিরাজ খানের ছেলে। এলাকায় সে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি ও সেবনকারি হিসেবে পরিচিত। তবে পরিবারের দাবী সে সবজি ব্যবসায়ি। পুলিশ ধারণা করছে, মহসিন মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে খুন হয়ে থাকতে পারে। তবে তার হত্যাকান্ডের স্থান নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, রবিবার রাতে মহসিন তার বন্ধু দীপুর সাথে মটরসাইকেলযোগে আশুলিয়ার গকুলনগর এলাকায় বৈশাখী মেলায় বেড়াতে যায়। এসময় দীপু তাকে কৌশলে অপরাপর সন্ত্রাসীদের সহায়তায় কুপিয়ে গুরতর আহত করে। এক পর্যায়ে দীপুই চিকিৎসার কথা বলে মটরসাইকেলযোগে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পথে আহত মহসিনের শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে সাভার বাসস্ট্যান্ডে মটরসাইকেলের ওপর নেতিয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে চৌরঙ্গী সুপার মার্কেটের সামনে মটরসাইকেল থামিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য একটি ওষুধের দোকানে নিয়ে যায়। এ সময় প্রচুর রক্তক্ষরণের দৃশ্য দেখে দোকানী ও উপস্থিত লোকজন ভড়কে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী চান মিয়া, তোফাজ্জেল আলমসহ কয়েকজন জানান, মটরসাইকেল থেকে নামানোর পরপরই ঘটনাস্থলে অনেক রক্ত পরতে দেখেন তারা। সম্ভবত ওই সময়েই তার মৃত হয়। তবে এ সময় লোকজনের ভীড় ও পরিস্থিতি দেখে মহসিনকে ফেলে মটরসাইকেল চালিয়ে দীপু পালিয়ে যায়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে এনাম মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মহসিন আহত হয়েছে বলে তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বলে দীপু।

এদিকে পানধোয়ার একাধিক সূত্র জানায়, গকুলনগর মেলা স্থানের কাছেই মহসিনকে রবিবার সন্ধ্যার পর পরই ছুরিকাঘাত করা হয়। নিহত মহসিন তার পালিয়ে যাওয়া বন্ধু দিপু, মাসুদসহ একটি চক্র এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেরণ করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ওই যুবক মাদক ব্যবসায়ি। তবে সে সাভারে সবজী বিক্রি করতো বলে দাবী করেছেন তার বাবা।

এবিষয়ে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্য ওসি এ এফ এম সায়েদ বলেন, এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। কারণ মহসিন আশুলিয়া থানা এলাকায় ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সেই হিসেবে মামলা আশুলিয়া থানায় হওয়ার কথা। তবে  নিহত যুবকের বন্ধু দীপুকে আটক করার চেষ্টা চলছে। তাকে ধরতে পারলে হত্যার মূল মোটিভ জানা যাবে। সর্বপরি হত্যাকারীদের আটকের প্রক্রিয়া চলছে।