২০ লাখ ইঁদুর নিধন করেছেন যিনি

0
78

২০ বছরে ২০ লাখ ইঁদুর নিধন করেছেন মাগুরার আব্দুল হান্নান। এর জন্য কোনও টাকা পয়সা নেননি তিনি। সমাজের মানুষের উপকারের জন্য নিজ উদ্যোগে ইঁদুর নিধন করে চলেছেন তিনি।

মাগুরা সদর উপজেলার বড়খড়ি গ্রামের কাঠমিস্ত্রি হান্নান আর্থিক অনটনের কারণে বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারেননি। অল্প বয়সেই কাজে নেমে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে তাকে। ২০ বছর আগে একবার তিনি ১৫ মণ ধান কিনে ঘরে রেখেছিলেন। ৫ মাস পর দেখেন তার ধান আছে ১১ মণ। বাড়িতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখে হান্নান বুঝলেন ইঁদুরেই খেয়েছে তার ধান। এরপর থেকে হান্নান পরিকল্পনা করতে লাগলেন কী করে ইঁদুর নিধন করা যায়। যেহেতু তিনি কাঠমিস্ত্রি তাই অল্পদিনেই তৈরি করে ফেললেন একটি ইঁদুর মারার যন্ত্র। মাত্র এক মাসে তার বাড়ি হয়ে গেল ইঁদুরমুক্ত। এ সাফল্য হান্নানকে ভাবালো অন্যভাবে। ঘর থেকে বেরিয়ে এসে এবার তিনি শুরু করলেন এলাকাবাসীর বাড়িতে ও ফসলের ক্ষেতে ইঁদুর নিধন। ছয় মাসের মধ্যে তার গ্রাম বড়খড়ি ইঁদুরমুক্ত হয়ে গেল। এ গল্প আশেপাশে ছড়িয়ে পড়লে দূর-দূরান্ত থেকে ডাক পড়ল হান্নানের। এখন হান্নানের এ সাফল্য ছড়িয়ে পড়েছে মাগুরা জেলার সর্বত্র। শুধু তাই নয়, ইঁদুর নিধনে তিনি জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন।

হান্নান জানান, ‘২০১০ সালে আমি এক লাখ ৯০ হাজার ইঁদুর মেরে জাতীয় পুরস্কার পাই। পরের বছর আবারও এ সম্মান মেলে দুই লাখ ১০ হাজার ইঁদুর নিধনের জন্য। গত ২০ বছরে আমি কমপক্ষে ২০ লাখ ইঁদুর নিধন করেছি।’

বড়খড়ি গ্রামের বাসিন্দা সাগর হোসেন বলেন, ‘হান্নান একেবারেই নিঃস্বার্থভাবে সমাজের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু তার গ্রাম নয়, যে যখন ডাকে হান্নান ছুটে যান তার ঘরে বা ফসলের ক্ষেতে। এমনকি কোনও টাকা দিলেও তিনি তা নেন না। বিনা অর্থে তিনি ব্যবহার করতে দেন তার যন্ত্রগুলোও।’

হান্নান বলন, ‘ইঁদুর মারা আমার পেশা নয়। বরং এটা আমার নেশা। আমি সমাজের মানুষের জন্য সামান্য কিছু করতে পারলেই ধন্য। বাকি জীবনটাও আমি ইঁদুর নিধনের মাধ্যমে সমাজের উপকার করতে চাই।’

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘হান্নানের এ কাজ অনেক বড় একটি কাজ। প্রতিদিন একটি ইঁদুর ২৭ গ্রাম খাদ্য গ্রহণ করে। এছাড়া প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাবার নষ্ট করে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় প্রতিবছর ইঁদুর ৫৪ লাখ মানুষের খাদ্যশস্যের ক্ষতি করে। তাই হান্নানের এ কাজকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন এবং সারাদেশে হান্নানকে পরিচিত করা দরকার।’