পেলে আশাবাদী, এক হাজার গোল করবে এমবাপে

0
99

রাশিয়া বিশ্বকাপের সময়ই বিস্ময় উপহার দিয়েছিলেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী বিস্ময় বালক কাইলিয়ান এমবাপে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই নিজ দেশকে উপহার দিলেন বিশ্বকাপ শিরোপা। কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান পেলে তখনই এমবাপের মাঝে নিজের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন বলে ঘোষণা করেছিলেন।

এবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ভবিষ্যতের পেলের সঙ্গে দেখা হলো আসল পেলের। সেখানেই ফরাসি বিস্ময় বালক এমবাপের উচ্চসিত প্রশংসা করলেন পেলে। ভবিষ্যদ্বাণী করলেন, ‘একদিন এমবাপেই তাকে ছাড়িয়ে যাবেন এবং ১০০০ গোল করবেন।’

৭৮ বছরের ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি তার ফুটবল ক্যারিয়ারে এক হাজারের বেশি গোল করেছেন বলে জানা যায়। তিনি নিজেই এমনটা দাবি করেন। অথচ, সেখানে ফরাসি উদীয়মান তারকা এমবাপে কি না এখনও পর্যন্ত গোল করেছেন কেবল ১০৩টি। এর মধ্যে ৯২টি ফুটবল প্রতিযোগিতার উঁচু স্তরের; কিন্তু একটি অনুষ্ঠানে প্যারিসে এসে পেলে বললেন, ‘আমি ১০২৫টি গোল করেছিলাম। ওর পক্ষে এক হাজার গোল করা সম্ভব।’ সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন এমবাপেও।

প্যারিসের সেই অনুষ্ঠানে পেলের সঙ্গে দেখা হয়েছে এমবাপের। এরপর জ্বর ও সংক্রমণের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্যারিসের এক হাসপাতালে পেলের চিকিৎসাও চলছে। তবে অবস্থা তেমন গুরুতর নয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

রাশিয়ায় ইতিহাসের দ্বিতীয় টিনএজার হিসেবে পেলের পর এমবাপেই বিশ্বকাপ ফাইনালে তার দ্বিতীয় গোলটি করেন। সেই থেকেই পেলের সঙ্গে নাম উচ্চারিত হচ্ছে এমবাপের।

প্যারিসে এসে পেলের করা এমন মন্তব্যকে কিন্তু খুব বড় করে দেখছেন না এমবাপে। তিনি বলছেন, ‘যদি শহরের মধ্যে বিভিন্ন ম্যাচে করা গোল এবং প্লে-স্টেশনের গোলও যোগ করা হয়, তাহলেও কিন্তু ১০০০ গোল করতে পারব না! তবে যতটা কাছাকাছি যাওয়া যায়, তার চেষ্টা করব। ক্যারিয়ারের শেষের দিকে ওই লক্ষ্যের অনেক দূরেই থাকব বলে মনে হয়।’

চলতি মৌসুমে পিএসজির হয়ে এমবাপে ৩২টি গোল করেছেন এখনও পর্যন্ত। এর মধ্যে লিগ ওয়ানে ২৪ ম্যাচে করেছেন ২৭ গোল। পেলেকে দেখিয়ে এমবাপে বলছেন, ‘কিং একজনই। আমি কাইলিয়ান। আমি আমার সব শক্তি দিয়ে আমার টিম এবং ক্লাবকে জেতাতে চেষ্টা করি। তার সঙ্গে আমার কোনও তুলনাই হয় না। উনি যা করেছেন, তা আমি কখনওই করতে পারব না।’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘উনি (পেলে) যখন খেলেছেন, তখন বিশ্বের সেরা প্লেয়ার হওয়ার জন্য খেলেননি। নিজের আনন্দে খেলেছেন। সে সঙ্গে নিজের দেশ এবং ক্লাবকে জিততে সাহায্য করেছেন। আমিও চেষ্টা করি আমার দেশ এবং ক্লাবকে জেতাতে। এর পর আমি কেমন খেললাম, তার মূল্যায়ন তো অন্য লোক করবেন।’

এমবাপে আরও বলেন, ‘সবাই বলে উনি শ্রেষ্ঠ ফুটবলার; কিন্তু আমি যদি নিজেকে সেরা বলি, তা হলে তো আর বাকি কিছুই রইল না।’