ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করার পর ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সাভার সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ওই কর্মকর্তাদের কাছে মাদক ব্যবসায়ীকে ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি ধামরারইয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিক জানতে চাইলে তারা ঐ দুই সাংবাদিককে  মাদক মামলা দিয়ে আদালতে চালান করে দেওয়ার হুমকি দেন।

এলাকাবাসী ও বিজয় টিভির ধামরাই প্রতিনিধি জুলহাস উদ্দিন ও আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার ধামরাই প্রতিনিধি রাসেল হোসেন জানান,  বুধবার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের (সাভার সার্কেল) পরিদর্শক নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে কালামপুর গ্রামের মাবুদ আলীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী শামীমের ঘরে অভিযান চালায়। এ সময় শামীমকে নিজবাড়ী থেকেই আটক করেন তারা। এরপর শামীমকে মারপিট করা হয়। এক পর্যায়ে শামীমকে ছেড়েও দেন তারা।

এদিকে অভিযোগ উঠে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে শামীমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে কালামপুর এলাকা থেকে মানিকগঞ্জের আবদুল করিমকে ২০ পিচ ইয়াবা বড়িসহ আটক করে ধামরাই থানায় হস্তান্তরের সময় বিকেল বেলায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সাভার সার্কেলের কর্মকর্তাদের কাছে টাকার বিনিময়ে শামীমকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি জানতে চান সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিন ও রাসেল হোসেন। এক পর্যায়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সাভার সার্কেলের এস আই রফিকুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দুই সাংবাদিককে গাড়ীতে তুলে নিয়ে মাদক দিয়ে মামলা করে আদালতে চালান দেওয়ার হুমকি দেন। পরে অন্য এক সাংবাদিকের মধ্যস্থতায় রক্ষা পান ওই দুই সাংবাদিক।

সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিন ও রাসেল হোসেন বলেন, ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ী শামীমকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগটি জানতে চাইলেই মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (সাভার সার্কেল) ঢাকা জেলা কার্যালয়ের এস আই রফিকুল ইসলাম তেলে বেগুনে জ¦লে উঠেন। এক পর্যায়ে আমাদেরকে গাড়ীতে তুলে নিয়ে মাদকের মামলা দিয়ে আদালতে চালান করার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে পরিদর্শক নুসরাত জাহান বলেন, শামীমকে আটক করে মারপিট করা হয়েছে এটা সত্য। কিন্তু কিছু পাওয়া যায়নি বলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে টাকার বিনিময়ে নয়। 

দুই সাংবাদিককে মাদকের মামলা দিয়ে আদালতের চালান করার হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা বাবুল সাংবাদিককের মধ্যস্থতায় মিমাংসা হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুব্রত সরকার বলেন, ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে যদি নিয়ে থাকে এবং কেউ অভিযোগ দেয় তাহলে তাদের (কর্মকর্তা) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।