ঢাকা শহরের বর্জ্যরে ভাগাড় সাভার বসবাসের অযোগ্য পড়ছে, দখল দূষণে পরিবেশ বিপন্ন

0
199

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা শহরের বর্জ্যেরে ভাগাড় হয়ে উঠেছে সাভার। এছাড়াও ক্রমাগত কেমিক্যাল মিশ্রিত কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য, নদী খাল দখল করে বাড়িঘর মিল কারখানা, বিনোদন কেন্দ্র ও হাউজিং প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে এ অঞ্চলে। দূষণ ও দখলের ফলে নদী ও খাল আজ মৃতপ্রায়। যতটুকু আছে তার পানিও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে সাভার আজ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

বুধবার ‘পরিবেশ দূষণে বিপর্যস্ত সাভার-উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। সাভার সেনানিবাসের গলফ ক্লাবের গলফ হাউজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি। সাভার নদী ও পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি কৃষিবিদ ড. রফিকুল ইসলাম ঠান্ডু মোল্লার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল হক।

পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার প্রধান নির্বাহী এডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রেজাউল করিম বাবলু এমপি, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এমপি, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর সুলতান আহমেদ, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিবেশগত কোন সমীক্ষা ছাড়াই সাভারে ধলেশ্বরী নদীর তীরে হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় গড়ে তোলা হয় চামড়া শিল্প নগরী ট্যানারি। যথাযথ পরিশোধন ছাড়াই কঠিন বর্জ্য সরাসরি নদীতে নির্গত হওয়ায় এখন মৃতপ্রায় ধলেশ্বরী নদী। একই চিত্র সাভার ঘিরে থাকা বুড়িগঙ্গা, বংশী ও গাজীখালি নদীর। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং শিল্প কলকারখানার দূষণে ক্রমেই সাভার হয়ে উঠেছে বর্জ্যের ভাগাড়। বসবাসযোগ্যতা হারাচ্ছে গোটা এলাকা। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সাভারে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিরা।

মতবিনিময় সভায় বলা হয়, চামড়া শিল্প নগরী অপরিশোধিত বর্জ্য ধলেশ্বরীতে নিঃসরণ আমিনবাজারে বন্যাপ্রবাহ এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা, খাল অবৈধভাবে দখল দূষণ ও ভরাট, ইপিজেড এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা অসংখ্য টেক্সটাইলস অটোমোবাইল ওষুধ শিল্প দূষণের কারণে সাভার এখন পরিণত হয়েছে আবর্জনার ভাগাড়ে। এর আগে তারা ট্যানারি, ধলেশ^রী নদী ও কর্ণপাড়া খাল পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানানো হয় এই অনুষ্ঠানে।

বক্তারা বলেন, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী সভার উপশহরের চতুর্দিকের তুরাগ, বংশী, ধলেশ্বরী বুড়িগঙ্গা, গাজীখালী নদীসহ ১৪টি খাল বহমান। এগুলো আজ কেবলই স্মৃতি। নদী খালের রূপ শুধুই ভূমি অফিসের কাগজপত্রে আছে, বাস্তবে নেই। ৩০০ ফুট খাল এখন ১০ ফুট এ পরিণত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সাভার অচিরেই পুরোপুরি দূষণের নগরীতে পরিণত হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, ডিইপিজেড, চামড়া শিল্প নগরী, বিভিন্ন মিল কারখানার নির্গত বর্জ্য ইটভাটার কালো ধোঁয়া এ এলাকার পরিবেশকে বিষময় করে তুলেছে। বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি নদী খাল-বিলে ফেলা হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলে পাঁচ হাজার একর কৃষি জমি আজ হুমকির মুখে। মৎস্য সম্পদ বিলুপ্তির পথে। বিষাক্ত বর্জ্যে মাছ মরে ভেসে উঠছে। মানুষের দেহে বিভিন্ন রোগ ব্যাধি সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সাভার অঞ্চলের পরিবেশ ও জনজীবন ভয়ংকর পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে অসাধারণ উন্নয়ন হচ্ছে। এ উন্নয়ন ধরে রাখতে হলে টেকসই উন্নয়ন হতে হবে। আর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশকে প্রাধান্য দিতে হবে।

সভায় অনেকের মধ্যে নানা সমস্যা নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাভার পৌর মেয়র হাজী আবদুল গণি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল হাসান, সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ফুলকি’র সম্পাদক নাজমুস সাকিব, সাভার নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান নঈম, সাভার প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক গোবিন্দ আচার্য্য, সাভার উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মুকা সেফা, এনজিও কর্মকর্তা বাবুল মোড়ল, এ্যাভোকেট শাহীনুল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মল্লিক, কৃষক নাছির উদ্দিন, আব্দুল হালিম, কৃষাণী শামসুন নাহার হেনা, শাহনাজ বেগম প্রমুখ। এছাড়াও ডাক্তার, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, পরিবেশ উন্নয়ন কর্মী, আইনজীবীসহ সরকারী-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।