জাবিতে সহপাঠীকে শিক্ষার্থীদের মারধর

0
216

জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দর্শন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের (প্রথম বর্ষ) এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন একই ব্যাচের ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী। বুধবার সন্ধ্যায় বিশ^বিদ্যালয়ের নতুনকলা ভবনের সামনে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরকারীরা সবাই বিশ^বিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর মারধরের শিকার শেখ শাহরিয়ার পারভেজ শাওনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাভারের একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ক্লাস শেষ করে সন্ধ্যায় নতুন কলা ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাহরিয়ার পারভেজ। এসময় বিশ^বিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ৪৮ ব্যাচের ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী তাঁর ওপর হামলা করেন। এতে আহত হন শাহরিয়ার পারভেজ। দর্শন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী তাদেরকে নিষেধ করলেও তারা শোনেননি। পরে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে বিশ^বিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।


মারধরের শিকার শাহরিয়ার পারভেজ বলেন, ‘গত সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাই আমি। বন্ধুকে বিভাগে না পেয়ে সেখান থেকে ফিরে আসছিলাম। এসময় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এস এইচ পিয়াস আমাকে পেছন থেকে ডেকে পরিচয় দিতে বলেন। পিয়াস নিজেকে ৪৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে আমাকে পরিচয় দেওয়ার জন্য জোর করেন। আমার শার্টের কলার ধরে মারতে আসে। পরে তার কথা না শুনে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি আমি।’ সেই ঘটনার জের ধরে আজ তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শাহরিয়ার পারভেজ শাওন।


অভিযোগের বিষয়ে এস এইচ পিয়াস বলেন, ‘শাহরিয়ার গত পরশু আমাকে টিএসসি থেকে ধরে এনে লাইব্রেরীর সামনে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। আমি বিস্তারিত বিষয় আমার হলের বড় ভাইদের জানাই। তখন তারা বলে মারের বদলে মার হবে। যার প্রেক্ষিতে আজ আমরা ২০-২৫ জন তাকে নতুনকলাভবনের সামনে পেয়ে মারধর করেছি।’
ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী প্রক্টরকে পাঠিয়ে আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমরা ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।’