আগুন নেভাতে কেনা হচ্ছে বিশেষ হেলিকপ্টার

0
97

স্টাফ রিপোর্টার : আগুন নেভাতে ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে ফায়ার সার্ভিসের জন্য বিশেষ ধরনের হেলিকপ্টার কেনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত সভায় এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার ব্যবহার করায় আগুন আরও ছড়িয়ে যায় বলে জানা গেছে। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুন একেবারে পিক টাইমে ঘটেছিল। সেই সময়ে ফায়ার সার্ভিস ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে। তিনি বলেন, আগুনের ঘটনায় যারা ওই ভবনে আটকা পড়েছিল তাদের উদ্ধারের জন্য বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিল।

সব শক্তি ব্যবহার করে লোকজনকে উদ্ধার করতে চেয়েছিলাম। হেলিকপ্টারে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য পানিও ঢালা হয়েছিল। আগুন নেভাতে ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে ফায়ার সার্ভিসের জন্য বিশেষ ধরনের হেলিকপ্টার কেনা হবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসের জন্য বিশেষ ধরনের হেলিকপ্টার ক্রয় করা হবে। এই হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম ও আগুন নিয়ন্ত্রণ দুটোই হবে।

এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের আরও আধুনিকায়নের কাজ অব্যাহত রয়েছে। তাদের এখন ঝুঁকি ভাতাও দেয়া হচ্ছে। বানীর ঘটনায় উৎসুক জনতার জন্য উদ্ধারকাজ শুরু করতে ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় লেগেছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস খুব তৎপর ছিল। সময়মতো গাড়ি সেখানে গিয়েছিল। কিন্তু উৎসুক জনতার জন্য উদ্ধারকাজ শুরু করতে ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় লেগেছিল। বনানীর আগুন লাগার পরপরই দুটি হেলিকপ্টার ওপর থেকে পানি ও বালি ছিটায়। একপর্যায়ে ভবন থেকে ৫০-৬০ ফুট উঁচুতে এসে দুজনকে উদ্ধার করে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করেন, আগুনের তীব্রতা বাড়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া দুটি হেলিকপ্টারের বাতাসের কারণে। গত ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এতে ২৬ জন নিহত হন। আহত হন ৭৩ জন। ভবনের নবম তলায় আগুনের সূত্রপাত। পরে ছড়িয়ে পড়ে ২৩ তলা ভবনের বেশ কয়েকটি তলায়। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। এই সময়ের মধ্যে হৃদয়বিদায়ক অনেক ঘটনা ঘটেছে। আগুন থেকে বাঁচতে উঁচুতলা এই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছেন অনেকে, অনেক নামতে না পেরে ভবনের মধ্যে পুড়ে কয়লা হয়েছেন, অনেকে নামতে গিয়ে হাত পা ভেঙে মৃত্যুর সঙ্গে পাল্লা লড়েছেন, স্বামী-স্ত্রী পুড়ে মরেছেন একসঙ্গে। এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা ইতিহাসের পাতায় সাক্ষী হয়ে থাকবে।