ধামরাইয়ে অপহৃতের লাশ সাভারে উদ্ধার, আটক ৫

ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি অপহৃত বিপ্লব হোসেনের লাশ বুধবার রাতে সাভার থেকে উদ্ধার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের মুশুরীখোলা এলাকায় একটি নদীর মধ্যে অজ্ঞাতনামা লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে সাভার থানা ও ধামরাই থানা পুশিল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় লাশের পেটফাড়া, গলায় রশি বাধা ও বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই শেখ সেকেন্দার আলী।

তদন্ত কর্মকর্তা শেখ সেকেন্দার আলী জানান, রিমান্ডে থাকা জাহিদ হাসান দিপুকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ সনাক্ত করা হয়। এরপর খবর দেওয়া হয় বিপ্লবের স্বজনদের। তারাও লাশটি বিপ্লবের সনাক্ত করে। পরে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তবে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন,‘উদ্ধার করা লাশটি বিপ্লবের কিনা যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যে পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষা না হবে এ পর্যন্ত বিপ্লবের লাশ কিনা তা নিশ্চিত বলা যাবে না। কিন্তু তার স্বজনদের ধারণা, এটা বিপ্লবের লাশ’। তবে বিপ্লবকে কে অপরহরণ করেছে, বা কোথায় আছে অথবা আদৌ খুন হয়েছে কিনা-এ নিয়ে ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে মরদেহটি কেউ আনতে যায়নি বলে জানান বিপ্লবের স্ত্রী জেসমীন আক্তার।

 

বিপ্লব অপহরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমছিমুর গ্রামের মিজানুর রহমান মিজুর ছেলে জাহিদ হাসান দিপুকে রবিবার রাতে সাভারের বাসা থেকে আটক করে ধামরাই থানা পুলিশ। সোমবার তাকে ১০দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করে। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। বর্তমানের ধামরাই থানায় রিমান্ডে রয়েছে জাহিদ হাসান দিপু।

এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারী বিপ্লবের স্ত্রী জেসমিন আক্তারে কাছে মোবাইল ফোনে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপজেলার যাদপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন, আমড়াইল গ্রামের আবু হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম, আবদুল করিমের ছেলে মাফিজুল ইসলাম ও গোমগ্রামের দীন ইসলামের ছেলে সাকির হোসেনকে আটক করে পলিশ। এরমধ্যে মুক্তিপণ দাবি করার কথা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে আলমগীর হোসেন। বাকী তিনজনকে তিনদিনের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। কিন্তু তারা কেউ অপহরণের কথা স্বীকার করেনি। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছে।

বিপ্লব গত ২৫ ফেব্রুয়ারী নিজ বাড়ি থেকে প্রতিবেশী কৃষক আবদুল গণিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে স্থানীয় গোমগ্রাম হাটে যাওয়ার সময় বেলা দুইটারদিকে গোমগ্রামের ভিতর একটি মাইক্রোবাস ও দুটি মোটারসাইকেল দিয়ে ব্যারিকেড দেয়। এরপর তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা। বিপ্লব (৩৯) উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের আমছিমুর গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। সে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য চৌহাট গ্রামের নাজমুল হাসান পান্না হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে সাড়ে ৩ বছর হাজত বাস করে গত বছরের ৭ আগস্ট জামিনে মুক্তি পায়।

 

বিপ্লব অপহরণ হওয়ার পর তার স্বজনদের প্রথম দাবি ছিল আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা বিপ্লবকে ধরে নিয়ে গেছে। পরবর্তীতে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে বিরোধী পক্ষ একই গ্রামের চেয়ারম্যানের ছেলে দিপুকে সন্দেহ করতে থাকে বিপ্লবের স্বজনরা।