সহিংসতা বন্ধে ওআইসি সংসদ সদস্যদের সোচ্চার হতে হবে: স্পিকার

নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় ও সহিংসতা বন্ধে পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন অব দ্য ওআইসি মেম্বার স্টেটস (পিইউআইসি)-কে সোচ্চার ও সক্রিয় হতে আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে পিইউআইসি মুখপাত্র হিসেবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।’

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত পিইউআইসি’র ১৪তম সম্মেলনে জেনারেল কমিটির সভায়  এসব কথা বলেন তিনি।

স্পিকার শিরীন শারমিন বলেন, ‘পিইউআইসি সর্বজনীন নৈতিকতার কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করতে পারে।’ ওআইসি’র বিবেচ্য আন্তর্জাতিক সব বিষয়ে এ সংগঠন আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হয়ে মুসলিম উম্মাহর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘মাদার অব হিউম্যানিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী পাঁচ দফা প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন।’

স্পিকার বলেন, ‘জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন চায় বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে মিয়ানমারের সদিচ্ছাই দিতে পারে রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত ও টেকসই সমাধান।’

গত বছর পিইউআইসি তেহরান সম্মেলনে নিরীহ ও নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় স্পিকার এই সংগঠনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘ওআইসির কর্মপরিকল্পনা ২০২৫ এর আওতায় ব্লু-ইকোনমি, গ্রিন ইকোনমি, আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ স্থাপন, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।’

সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, এস এম শাহজাদা, সৈয়দা জাকিয়া নূর, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী  এবং  জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমদ খান অংশগ্রহণ করেন।