সিংগাইরে ৬ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা

 

মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইর ইতিমধ্যেই ফুলের জন্য বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। পৌর এলাকাসহ এ উপজেলার শায়েস্তা, ধল্লা, তালেবপুর, জামির্ত্তা ও জয়মন্টপ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দু’শতাধিক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুলের উৎপাদনও ভালো হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছর সিংগাইরের চাষিরা প্রায় ৬ কোটি টাকার ফুল বেচা-কেনা করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে আর্থিকভাবে লাভবানের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুল বাগানে কর্মরত শ্রমিকেরা।

সরেজমিন  মঙ্গলবার দেখা গেছে, কানাইনগর গ্রামে টিটু মিয়ার বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে গ্রীণহাউজ শেডে নির্মিত জারবেরা ফুলের সমারোহ। ওই বাগানে শোভা পাচ্ছে একই প্রজাতির ৭টি রঙের ফুল। পার্শ্ববর্তী বাগানে রয়েছে চন্দ্রমল্লিকা, কেলেনডোলা ও গোলাপ ফুল। এই সৌন্দর্য কেবল মানুষের প্রশান্তিই আনে না, ফুল চাষ সমৃদ্ধিও এনেছে অনেকের জীবনে। এ এলাকার অনেক চাষি তাদের জমিতে ধান পাটের বদলে সারা বছরই ফুল চাষ করছেন। তাদের উৎপাদিত রজনীগন্ধ্যা, গ্লাডিওলাস, গাঁদা, ডালিয়া ও জিপসীসহ ১০ ধরনের ফুল সারা দেশের মানুষের মন কাঁড়ছে।

বিশেষ করে বিজয় দিবস, ভালবাসা দিবস, পয়লা বসন্ত, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানাতেও রয়েছে ফুলের ব্যাপক চাহিদা। তাই বছরের এ দিবসগুলোকে ঘিরেই ফুলের মূল বেচা-কেনা।

সিংগাইর পৌর এলাকার আজিমপুর মহল্লার ফুল বাগানের মালিক মোনেম আহম্মেদ বিপ্লব বলেন, আমি সাত বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করেছি। ভাল পরিচর্যা করা হলে ১৪ ও ২১ ফেব্রুয়ারি দু’টি দিবসকে ধরে সারা বছরই ফুল বিক্রি করে থাকি। এতে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা বিক্রি করা যায়।

তাছাড়া আর্টিফিসিয়াল ফুলের কারণে তাজা ফুলের মার্কেট কিছুটা নষ্ট হয়েছে। কানাইনগর গ্রামের আব্দুল করিম এবার ৬ বিঘা জমিতে গোলাপ, কেলেনডোলা ও চন্দ্রমল্লিকা ফুলের আবাদ করেছেন। ইংরেজি নববর্ষসহ অন্যান্য বিশেষ দিবসগুলো মিলিয়ে ৪ লক্ষাধিক টাকার ফুল বিক্রির আশা করছেন তিনি।

পার্শ্ববর্তী জারবেরা ফুল বাগানের ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ বলেন, আমরা পাঁচ বিঘা জমি লীজ নিয়ে বছরখানেক আগে ভারত থেকে প্রতিটি ৮০ টাকা দরে একই জাতের ২২ হাজার ফুলের চারা ক্রয় করে এনে লাগিয়েছি। আমাদের এ প্রজেক্টে ৪২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। চারা রোপণের ৩ মাস পর থেকেই ফুল আসা শুরু হযেছে। সাত মাস যাবত দু’দিন পর পর গড়ে ৫ হাজারেরও অধিক ফুল সংগ্রহ করি।

তিনি আরো বলেন, ঢাকাস্থ আগারগাঁও ফুলের মার্কেটে প্রতিটি ফুল ৮-১০ টাকায় পাইকারি বিক্রি করে থাকি। বিশেষ দিবস ছাড়াও আগামী আরো ৫ মাস পর্যন্ত এভাবেই ফুল তোলা যাবে। সব মিলিয়ে এ বছর প্রায় অর্ধকোটি টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি। চলতি বছর তেমন লাভ দেখা না গেলেও এ প্রজেক্ট আগামী দু’বছর পর্যন্ত থাকবে। এতে খরচ অনেক কম হবে এবং আর্থিকভাবে সফলতা আসবে। তাছাড়া ভারত থেকে আমাদের আর চারাও আনতে হবে না।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ টিপু সুলতান সপন বলেন, মাঝারি ও উচু জায়গা ফুল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ফুলের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়াতে চাষিরা ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পক্ষ থেকে ফুল চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রজেক্টের আওতায় কয়েকটি ফুলের প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য ফুল চাষিদেরও আমরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি। চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২ হেক্টর বেশি।