সিংগাইর পৌরবাসী শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ

মাসুম বাদশাহ সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সিংগাইর পৌরসদরে বসবাসকারি ব্যবসায়িসহ সাধারণ পথচারি। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, টেম্পো ও জেনারেটরের মাধ্যমে ডিজেলচালিত যানবাহনে শব্দ দূষণ হচ্ছে।

প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে হাইড্রোলিক হর্ণ বাজাচ্ছে ওইসব যানবাহন চালকেরা। এতে করে হর্ণের বিকট শব্দে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। শব্দ দূষণের ফলে মানুষের মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার সৃষ্টি করে। সেই সাথে অতিরিক্ত শব্দ উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, মাথাব্যথা ও অনিদ্রার কারণ বলে জানান চিকিৎসকেরা। স্কুল কলেজ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হাসপাতালসহ কোন কিছুরই তোয়াক্কা করে না যানবাহন মালিকেরা। বিশেষ করে পৌর সদরে শব্দ দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

পৌরসদরের শহীদ রফিক সরণীর দু’পাশ ঘেষেই রয়েছে স্কুল-কলেজ, মসজিদ, ক্লিনিক, ব্যাংক, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়, থানা, পৌরসভা কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বর্তমান সময়ে বেশী সমস্যা হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ণ। এভাবে প্রতিনিয়ত শব্দ দূষণ হলেও স্থানীয় প্রশাসনের নেই কোন মাথাব্যথা।

প্রত্যক্ষভাবে শব্দ দূষণ তেমন কোনো ক্ষতি না হলেও এটি নীরব ঘাতক। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষন আইন ১৯৯৫ এর ক্ষমতা বলে শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ এ সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ৫৫ ডেসিবেল ও রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৫ ডেসিবেল মানা হচ্ছে না। হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সব নিয়ম-নীতি ও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে প্রতিদিন পৌরসদরে মাইকের মাধ্যমে প্রচার ও বিভিন্ন গাড়ীর হাইড্রোলিকসহ বিকট শব্দে হর্ণ অহরহ বাজিয়ে যাচ্ছে। এ যেন দেখার কেউ নেই।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সেকেন্দার আলী মোল্লাহ বলেন, স্কুল কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটে। তাছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে শব্দ দূষণের কারণে মাথা ব্যথা, কানে শো-শো শব্দ ও কম শোনাসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। জরুরীভাবে এর প্রতিকার হওয়া দরকার।