প্রধানমন্ত্রীর এলাকায় সবাই উপস্থিত

দেশের বিভিন্ন উপজেলায় চিকিৎসক সংকটের কম-বেশি অভিযোগ থাকলেও এ বিষয়ে স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি বিরাজ করছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এ দুই উপজেলা প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা। গত ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি সরেজমিন সেখানে সব চিকিৎসকই উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিনে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজিরা খাতা পরিদর্শন করে দেখা যায়, চিকিৎসক উপস্থিতি প্রায় শতভাগ। ১৩ জন চিকিৎসকের মধ্যে ওই দুই দিন ১২ জন চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। অসুস্থতার কারণে নিয়মমাফিক ছুটিতে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ। বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে কর্মরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উপস্থিতি নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। ইউএইচএফপিও সবার আগে আসেন এবং সবার পরে হাসপাতাল ছাড়েন।

ইউএইচএফপিও ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ সমকালকে জানান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৩ জন। সাতটি পদ শূন্য। এসব পদ পূরণ হলে আরও ভালো চিকিৎসাসেবা সম্ভব হবে।

চিকিৎসা নিতে আসা টুঙ্গিপাড়ার গিমাডাঙ্গা গ্রামের আবদুর রহমান বিশ্বাস (৫৫) বলেন, শুনেছি পদের চেয়ে কয়েকজন চিকিৎসক কম রয়েছেন। তবে যারা কর্মরত আছেন, তারা অনেক আন্তরিক। যে কারণে কোনো অভাব বোঝা যায় না।

তবে হাসপাতালে চিকিৎসকের দায়িত্ব পালনের সময় বাড়ানোর দাবি রয়েছে কারও কারও। এমন একজন হলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটাগাতী গ্রামের এক রোগীর স্বজন লুৎফর মোল্লা (৬০)। তিনি বলেন, সরকারি সব অফিসে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেবা পাওয়া যায়। তবে হাসপাতালে দুপুরের পর বহির্বিভাগে সেবা পাওয়া যায় না। চিকিৎসকরা বিকেল ৫টা পর্যন্ত হাসাপতালে রোগী দেখলে ভালো হতো। দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষ উপকার পেত।

ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ সমকালকে বলেন, দীর্ঘ চার বছর তিনি এ হাসপাতালে কাজ করছেন। সবার আগে আসেন এবং সবার পরে হাসপাতাল ছেড়ে যান। ফলে কোনো চিকিৎসকের অযৌক্তিক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সুযোগ নেই। এই হাসাপাতালে ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি কোনো চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন না।

সরেজমিনে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা দেখেও স্বস্তিদায়ক চিত্র মিলেছে। এখানেও শতাভাগ চিকিৎসক সময়মতো উপস্থিত হন। কোটালীপাড়া ইউএইচএফপিও ডা. প্রমানন্দ মণ্ডল জানান, তাদের হাসপাতালে চিকিৎসকের ২২টি পদের মধ্যে ১০ জন কর্মরত রয়েছেন। সবাই যার যার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। চিকিৎসক সংকট থাকলেও এ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। কারণ সব রোগীর সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা সজাগ থাকেন। এ ছাড়া নৈমেত্তিক ছুটি এবং সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কেউ অনুপস্থিত থাকেন না।

চিকিৎসা নিতে আসা পবনারপাড় গ্রামের খোর্শেদ আলম (৫০) বলেন, এখানে চিকিৎসক কম। একেকজন চিকিৎসককে বেশি বেশি রোগী দেখতে হয়। দেখলেই বোঝা যায়, তারা হিমশিম খাচ্ছেন। তবে প্রত্যেকে আন্তরিক। শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ দিলে আরও ভালো সেবা পাওয়া সম্ভব।