নদী রক্ষার অভিযানে ৫ দিনে দেড় হাজার স্থাপনা উচ্ছেদ

নদী দখল ও দূষণ প্রতিরোধে ঢাকার চারপাশের নদীসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। গত ৫ দিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ বিভিন্ন নদী তীরে প্রায় দেড় হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচলানা করছে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এছাড়া স্থানীয় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ বিভিন্ন নদীর তীরে উচ্ছেদ অভিযান করা হচ্ছে। বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের কয়লাঘাট ও ইসলামবাগ এলাকায় এ অভিযান শুরু করা হয়। এসব অবৈধ স্থাপনার মধ্যে বিভিন্ন কারখানা, বসতবাড়ি, সেমিপাকা ভবনসহ বহুতল ভবনও রয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি থেকে শুরু করে বুধবার পর্যন্ত ৫ দিনে ছোট-বড় ভবনসহ ৮৯৫টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।

এছাড়া চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর দুই তীর ও খুলনার ময়ূর নদীসহ মহানগরের অভ্যন্তরীণ ২২ খালের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।

নৌ-মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বিআইডব্লিউটিএ বুধবার কামরাঙ্গীরচরের কয়লাঘাট ও ইসলামবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আড়াই শতাধিক পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চারতলা ভবন তিনটি, তিনতলা ভবন দুটি, দোতলা ভবন পাঁচটি, একতলা বাড়ি ৯টি, আধাপাকা ঘর ২৫টি এবং টিন ও টং ঘর ২০৮টি। মঙ্গলবার কামরাঙ্গীরচরের নবাবচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দু’শতাধিক পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি তিন তলা ভবন, দোতলা ভবন পাঁচটি, একতলা ভবন ২৮টি, আধাপাকা ঘর ২২টি এবং টং ঘর ১৫৫টি। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিআইডব্লিউটিএ দখলদারদের বিতারিত করার পরিকল্পনা নিয়ে নদী উদ্ধারে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ কার্যক্রম ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রথম পর্যায়ে বিআইডব্লিউটিএ ২৯-৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছোট-বড় ৪৪৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এগুলোর মধ্যে সাত, পাঁচ, তিন ও দোতলা পাকা ভবন, স’মিল গোডাউন, প্লাস্টিক কারখানা এবং আধাপাকা ভবনও রয়েছে।