সিংগাইরের চাষিদের মধু বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে

 

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাণিজ্যিকভাবে মৌচাষে আগ্রহ বাড়ছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের। এলাকার বেকার যুবক ও নি¤œআয়ের মানুষ মৌচাষ করে স¦াবলম্বী হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় কালোজিরা, ধনিয়া ও সরিষা ক্ষেতের পাশে করা হচ্ছে মৌচাষ। এভাবে উৎপাদিত  মধুর গুণগতমান ভাল হওয়ায় জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও দেশ-বিদেশের ছোট বড় কোম্পানীতে।

সরেজমিনে উপজেলার ওয়াইজনগর গ্রামের মৌচাষি শাহাবুদ্দিনের খামারে গিয়ে কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, নিজের চেষ্টায় ২০১৫ সালে গাজীপুর জেলার বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ ও সরকারি অনুমোদন নিয়ে নিজ বাড়ির সামনে ২০ টি বাক্স বসিয়ে প্রথম মৌচাষ শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে তার মৌবাক্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ টিতে। তাছাড়া অন্য জেলা থেকেও প্রায় অর্ধশতাধিক মৌয়াল এসে এ উপজেলার ১৫ থেকে ২০টি গ্রামে প্রায় ২ হাজার বাক্সে মৌচাষ করছেন। এ মওসুমে ওই সমস্ত বাক্স থেকে প্রায় ৫ হাজার কেজি মধু উৎপাদন হবে বলে মৌচাষিরা জানান।

চাষিরা প্রতি কেজি মধু বিক্রি করছেন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। এ হিসেবে যার বাজার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। আর্থিকভাবে লাভজনক হওয়ায় শাহাবুদ্দিনের মতো অনেকেই ঝুঁকছেন মৌচাষে।

শাহাবুদ্দিন বলেন, আমাদের মধু উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট বড় কোম্পানীতে সরবরাহ করা হয়। সারা বছরই আমার বাড়িতে মধু মওজুদ থাকে। তিনি আরো বলেন, মধুর নির্ধারিত বাজারমূল্য না থাকায় ন্যায্য দাম থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। তাই আমাদের দাবি সরকারিভাবে অথবা কোম্পানীর মাধ্যমে নির্ধারিত দামে মধু বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারলে আমরা আরো লাভবান হবো এবং মৌচাষে আগ্রহী হবেন এলাকার অনেকেই।

মধু কিনতে আসা শায়েস্তা ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে শরিফ, কানাইনগর গ্রামের হাবিবুর রহমান ও মানিকনগর বাজারের শহিদুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, এখান থেকে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত ভেজালমুক্ত মধু স্বল্প দামে কিনতে পেরে আমরা খুশি।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ টিপু সুলতান সপন বলেন, সরিষার পাশাপাশি এ বছর মধু উৎপাদনের জন্য ২ হাজার মৌবক্স বসানো হয়েছে। সরিষা ক্ষেতে পরাগায়ণের কারণে সরিষার বাম্পার ফলনসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার লিটার মধু উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। যা থেকে আসছে বাড়তি আয়। মৌচাষিরা হচ্ছেন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী।