ঢাকা ১৯ আসনে সংসদ নির্বাচন করছেন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ইদ্রিস আলী

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার, আশুলিয়া) আসনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এন.ডি.এম) এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মো. ইদ্রিস আলী। এন.ডি.এম এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (০২১) গণঐক্য নামে একজোট হয়ে হারিকেন প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তিনি। এন.ডি.এম এর হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি ইদ্রিস আলী নিজে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ‘আসন্ন নির্বাচনে আমি এন.ডি. এম এর একজন প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৯ (সাভার, আশুলিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। আমাদের এই দলটির চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। যিনি গত নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।’

মাত্র ২৫ বছর বয়সে প্রথম প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য প্রার্থী  হিসেবে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার, আশুলিয়া) আসনে প্রতিদ্বদ্বিতা করবেন ইদ্রিস আলী। তিনি স্নাতক শেষ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে। ‘এবিলিটি ডিজএবিলিটি ডিপেন্ডস অন মেন্টালিটি’ এই শ্লোগানে তিনি নির্বাচনে লড়ছেন।

ইদ্রিস আলী বলেন, ‘দেশের প্রথম কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে সংসদ সদস্য (এম.পি) পদে প্রতিদ্বদ্বিতা করছি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে এবার ভিন্ন কিছু করে দেশকে দেখাতে চাই। আমি হারলে আমি নিজে হারবো, আমি জিতলে তরুণরাই জিতবে।

তিনি আরও বলেন, ‘একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এবং নির্বাচনে প্রার্থী হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করলে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে এগিয়ে যাবে। আমি একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে দেশের উন্নয়েনে সমান অবদান রাখতে চাই। তাছাড়া আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান পাশ করে সমাজসেবায় নিয়োজিত আছি। সে জায়গা থেকে আরো  বেশি সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।’

বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ তরুণ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইদ্রিস আলীর জন্ম ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সালে মাগুরাতে। তিনি সি. আ. পি প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ছিলেন। এ বছর তিনি এশিয়া ইন্সপাইরেশন পুরস্কার-২০১৮ অর্জন করেছেন ৩০শে নভেম্বর শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের নেতাদের উপস্থিতিতে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। প্রতিবন্ধী মানুষদের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কাজের জন্য তিনি এ পুরস্কার পেয়েছে।