গোড়ালি ফাটার কারণ ও প্রতিকার

শীতকালে ত্বকের যত্নে একটু বাড়তি সময় ব্যয় করতে হয়। বেশিরভাগ মানুষই এসময় ত্বক ও হাত-পায়ের পরিচর্চা করে থাকে।কিন্তু আপনি পায়ের গোড়ালির প্রতি কি যত্নশীল? অনেকেই এদিকে যত্ন নিতে ভুলে যায় আর সে কারণেই গোড়ালি ফাটে। কেন গোড়ালি ফাটে? তার কারণগুলো ও প্রতিকার জেনে নিন-

শরীরের সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে পায়ের গোড়ালিতে। আর তাইতো পায়ের গোড়ালি ফেটে যায়। এছাড়াও শুষ্ক আবহাওয়াতে পায়ের গোড়ালি বাইরে থাকে। যে কারণেও পায়ের গোড়ালি ফাটতে পারে। রাস্তার ধূলাবালি বা মাটির সংস্পর্শেও অনেক সময় গোড়ালি ফাটে। গোড়ালি ফাটা খুবই কষ্টকর। অনেক সময় রক্ত পর্যন্ত পড়ে।

গোড়ালি ফাটার আসল কারণগুলো

1.গোড়ালি ফাটার কারণ ও প্রতিকার

গোড়ালির চারপাশের ত্বক শুষ্ক থাকে। এখানকার চামড়া একটু মোটা হয়। অনেক সময় এক নাগাড়ে দাঁড়িয়ে কাজ করলে গোড়ালি ফাটার সম্ভাবনা থাকে। আজকাল অনেকেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রান্না করেন। এছাড়াও যাদের অতিরিক্ত ওজন রয়েছে তাদেরও পায়ের গোড়ালি ফাটতে পারে। আবার বার্ধক্যাজনিত কারণেও গোড়ালি ফাটতে পারে। চটি জাতীয় জুতা পড়লে গোড়ালি ফাটতে পারে। অনেক সময় ধরে ভেজা কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলেও পায়ের গোড়ালি ফাটতে পারে। জুতা কেনার সময় বেশি পছন্দ হলে ছোট কিংবা বড় তফাৎ করা হয় না। জুতোর সাইজ ছোট বা বড় হওয়ার পেছনেও গোড়ালি ফাটা নির্ভর করে। এছাড়াও পরিবেশগত নানা পরিবর্তনের কারণেও পায়ের গোড়ালি ফেটে থাকে। শরীরে যদি ভিটামিন, মিনারেল ও জিংকের অভাব থাকে তাহলেও গোড়ালি ফাটার সম্ভাবনা থাকে।

গোড়ালি ফাটার হাত থেকে বাঁচার উপায়:

2.গোড়ালি ফাটার কারণ ও প্রতিকার

এক বালতি পানিতে সামান্য লবণ, পাতি লেবুর রস, গোলাপ জল ও গ্লিসারিন মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মতো এ পানিতে পা ঢুবিয়ে রাখুন। এরপর পানি থেকে পা তুলে একটা স্ক্রাবার দিয়ে পা ভালো করে স্ক্রাব করতে হবে। এতে পায়ের নরম চামড়া খুব সহজেই উঠে আসবে। স্ক্রাব করার পর লবণ বাদে বাকি উপকরণগুলো এক টেবিল চামচ পরিমাণ মিশিয়ে ঘুমানোর সময় গোড়ালির ফাটা জায়গায় লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। এ মিশ্রণটি সাধারণত আঠালো হয়ে থাকে। তাই আপনি চাইলে এ মিশ্রণটি লাগিয়ে মুজা পরেও ঘুমাতে যেতে পারেন। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে হালকা গরম পানি দিয়ে পা মুছে নিতে হবে। তবে পা অনেক নরম হয়ে যাবে ও পা ফাটাও অনেকটা কমে যাবে।

3.গোড়ালি ফাটার কারণ ও প্রতিকার

প্রথমে পা পরিষ্কার করে নিন। এরপর যদি আপনি মনে করে গ্লিসারিন ও লেবুর রস আঠালো তাই ব্যবহার করবেন না। তবে সেক্ষেত্রে আপনি ভেজিটেবল অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন। এ ভেজিটাবল অয়েল লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিতে হবে। পরের দিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে হালকা গরম পানি দিয়ে পা ধুঁয়ে নিতে হবে।

পাকা কলা চটকে নিয়ে গোড়ালি ফাটা স্থানে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর পানি দিয়ে ধুঁয়ে নিন। এতে পা অনেক নরম হবে ও গোড়ালি ফাটাও অনেক কমে যাবে। আপনি চাইলে কলার সঙ্গে আভোকাডো ফল মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।

ভ্যাসলিন এর সঙ্গে এক চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে সারা রাত পায়ে লাগিয়ে রাখুন। তবে পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর হবে ও পা নরম মিশ্রণ হয়ে যাবে।