‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন’ প্রকল্পে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা

দেশের প্রত্যান্ত গ্রাম অঞ্চলের অধিক ভাঙা রাস্তা জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন’ শিরোনামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। যা পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর বাস্তবায়ন করবে। নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদকালে এটি বাস্তবায়িত হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ এ সমস্ত রাস্তা মেরামত ও সংস্তার না করার ফলে কৃষিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণের সুবিধা পাচ্ছে না প্রান্তিক কৃষক। একইসঙ্গে গ্রামীণ জনগণের বাণিজ্যিক সুবিধা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও  সৃষ্টি হচ্ছে না, ফলে দারিদ্র বিমোচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এসব কারণেই দেশের ৬৪ জেলার ৪৮২টি উপজেলার চার হাজার ৭১৭ কিলোমিটার অধিক ভাঙা রাস্তা মেরামত ও সংস্কারের জন্য প্রকল্পটি প্রণয়ন করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

প্রকল্প প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার ৭১৭ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন (বিসি) হবে। বেজকোর্স শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম সড়কের পুনর্বাসন করা হবে ২ হাজার ২৮১ কিলোমিটার।

সূত্র জানিয়েছে, দেশের গ্রামাঞ্চলের সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে যে বরাদ্দ পাওয়া যায়, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এ কারণে বিদ্যমান সড়কের একটি বড় অংশ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে বিনিয়োগ করা সরকারি সম্পদেরর অপচয় হচ্ছে এবং পল্লী জীবনের কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের জনগণ। এ কারণে গ্রাম সড়কের পুঞ্জিভূত রক্ষণাবেক্ষণের পরিমাণ কমিয়ে বিশেষ করে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করে সমগ্র দেশের গ্রামীণ জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন’ শিরোনামে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সারাদেশের সহজ এবং নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, কৃষিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণের সুবিধা এবং গ্রামীণ জনগণের বাণিজ্যিক সুবিধা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা দারিদ্র বিমোচনে সহায়ক হবে। গ্রামীণ অর্থনৈতিক গতিশীলতা আসবে। এ লক্ষ্যেই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থের যোগান নিশ্চিত করে মোট ৩ হাজার ৮৩১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ধরে নভেম্বর থেকে শুরু করে ২০২১ সালের ৩০ জুন মেয়াদকালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়। ১ নভেম্বর তারিখে প্রকল্পটির ওপর পিইসির (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পিইসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোট ৩ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে ডিপিপি পুনর্গঠন করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে একনেকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রাম্য সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সড়ক অবকাঠামো ও সম্পদ সংরক্ষণ করা সহজ হবে। গ্রাম সড়কের ব্যাক লগ মেনটেইনেন্সের পরিমাণ কমানো এবং গ্রাম অঞ্চলের সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য নিরাপদ, সুষ্ঠু ও যথাযথ পরিবহন সুবিধা নিশ্চিতের মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় ও সময় সাশ্রয় হবে। এছাড়াও বিভিন্ন পণ্যের বাজারজাত ব্যবস্থার সহজীকরণ হবে। সড়ক অবকাঠামোসমূহ মেরামত ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে কৃষি, অকৃষি খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা সহজ হবে।’