উত্তরে নিউমোনিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে ভর্তি ৭৭৮ শিশু

রাজশাহী সংবাদদাতা:  রাজশাহী অঞ্চলে বাড়ছে নিউমোনিয়ার প্রকোপ। গত এক সপ্তায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭৮ জন শিশু। তবে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু মৃত্যুরও খবর নেই।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ঋতু পরিবর্তন জনিত কারণে বিশেষ করে শিশুরা বেশি নিউমোনিয়া আক্রান্ত হচ্ছে। কেবল রামেক হাসপাতালেই গত ১২ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত ৭৭৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

জাপান প্রবাসী তরিকুল ইসলামের শিশু সন্তান শাকিল আযাদ সাঈদ। গত ২ নভেম্বর ৫ মাসের শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরেন মা শাকিলা সালওয়া। রাজশাহী নগরীর মোন্নাফের মোড়ের বাসায় স্বজনদের সঙ্গে আনন্দেই দিন কাটছিল শাকিলের দিন।

হঠাৎ করেই ১২ নভেম্বর জ্বর এবং এর সঙ্গে থাকে কফ ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয় শাকিলের। ওই দিনই স্বজনরা তাকে রামেক হাসপাতালে নেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়েছে শাকিল।

jagonews

এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনরা। শেষ পর্যন্ত টানা সাত দিন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি থাকার পর ছাড়া পেয়ে ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফিরেছেন শাকিলা।

হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সাত মাস বয়সী গোলাম রসুল। ছয়দিন ধরে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে নগরীর উপকণ্ঠ বায়া এলাকার বাসিন্দা রুনা বেগম। তিনি জানান, টানা চিকিৎসা চলছে ছেলের। চিকিৎসক জানিয়েছেন, বাচ্চা অনেকটাই সুস্থ। আরেকদিন থেকে যেতে বলছেন।

তিনদিন ধরে হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি পাবনার ঈশ্বরদীর দু’মাসের শিশু আল হাসিব। তার নানি মর্জিনা বেগম জানান, কয়েকদিন ধরেই বাচ্চা জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত। অবস্থা বেগতিক দেখে পাবনা সদর হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। সেখান থেকে চিকিৎসক সোজা রামেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিউমোনিয়া ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ। সংক্রমণ এবং এর পরবর্তী প্রদাহ থেকে এ রোগ হয়। সংক্রমণ হতে পারে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ইত্যাদি দিয়ে।

সব সর্দি-কাশিই নিউমোনিয়া নয়। যখন জ্বর এবং এর সঙ্গে থাকে কফ ও শ্বাসকষ্ট, তখনই কেবল শ্বাসতন্ত্রে প্রদাহ হয়েছে বলে ধরা হয়। নিউমোনিয়া মৃদু বা হালকা থেকে জীবন হানিকরও হতে পারে।

শীতে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ এই নিউমোনিয়া। এ অসুখ বছর ব্যাপী হতে পারে। অজ্ঞতার কারণে নিরব ঘাতক নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যু হতে পারে।

রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ছানাউল হক বলেন, গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শীতকালে নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। কিন্তু এবার শীত আসার আগেই নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুরা হাসপাতালে আসছে।

jagonews

শীতকালে শিশুকে প্রয়োজনীয় উষ্ণতায় রাখলে নিউমোনিয়া থেকে অনেকটা রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে জানান এই অধ্যাপক।

এদিকে, হাসপাতালের তথ্যকেন্দ্র জানিয়েছে, গত ১২ নভেম্বর নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জন শিশু ভর্তি হয় হাসপাতালে। এরপর ১৩ নভেম্বর ১০৯ জন এবং ১৪ নভেম্বর ১১৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। ১৫ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর ভর্তি হয়েছে আরও ১৭৭ শিশু। এছাড়া ১৭ নভেম্বর ১৩৭ জন এবং ১৮ নভেম্বর ৯৫ জন নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে।

সর্বশেষ ১৯ নভেম্বর দুপুর ১টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে আরও ৩৮ জন। সাত থেকে ১০ দিন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে আক্রান্ত শিশুরা। বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।