কক্সবাজারের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে : আইজিপি

কক্সবাজার সংবাদদাতা:

ইয়াবার প্রবেশদ্বার হিসেবে কক্সবাজারের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাদক নির্মূলে জিরো ট্রলারেন্সে রয়েছে পুলিশ। আর এটি বাস্তবায়নে পুরো দেশেই কাজ শুরু হয়েছে। মাদকের প্রবেশমুখ সীমান্ত জেলা কক্সবাজারে জোরালোভাবে চলছে এ অভিযান। মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ক্ষমতাধর হলেও ছাড় দেয়া হবে না।

রোববার দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া থানা, উখিয়া সার্কেল ও ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের নব-নির্মিত ভবনের উদ্বোধন পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে আইজিপি এসব কথা বলেছেন।

IGP-Pic

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী চকরিয়া থানায় পৌঁছলে থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিনের চৌধুরী নেতৃত্বে চৌকশ পুলিশদল তাকে অভিবাদন জানান। পরে আইজিপি এক সঙ্গে থানা, সার্কেল ও তদন্ত কেন্দ্রের তিনটি নব-নির্মিত ভবন উদ্বোধনের ফিতা কেটে চকরিয়া থানার নতুন ভবন পরিদর্শন করেন। উদ্বোধন শেষে একটি গাছে চারা রোপন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, পুলিশ হেড কোয়ার্টারের ডিআইজি (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মল্লিক ফকরুল ইসলাম, সিএমপির পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবুর রহমার, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো.কামাল হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আবুল ফয়েজ, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া-সার্কেল) কাজি মতিউল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহমদ, প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

IGP-Pic

এর আগে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছান আইজিপি। তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা।

উল্লেখ, কক্সবাজার গণর্পূত বিভাগের অধীনে ২০১৪-১৫ সালে চকরিয়া থানা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দশ তলা ফাউন্ডেশনের ভবনটি বর্তমানে চারতলা পর্যন্ত কাজ শেষ করা হয়েছে। এই চার তলা ভবনটি নির্মাণ করতে প্রায় ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এতে রয়েছে বিশালায়তনের ব্যারাক ও ডাইনিং, মহিলা কনস্টেবলদের জন্য আলাদা থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা, অফিসারদের জন্য আলাদা কক্ষ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)’র জন্য আধনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কক্ষ, নারী-পুরুষ ও শিশুদের জন্য বড় পরিসরের হাজতখানা। রয়েছে বড় পরিসরের হলরুম, সেমিনার কক্ষ, মুন্সিখানা ও অস্ত্রাগার। একই সময়ে প্রায় একই সুবিধা সম্বলিত করে নির্মাণ করা হয় ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ভবন। তিনতলা বিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আর উখিয়া সার্কেল অফিস ভবনটি নির্মাণেও প্রায় এক কোটি তেত্রিশ লাখ সমপরিমাণ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান কক্সবাজার গণপূর্ত অফিসে বিভাগীয় প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী।