আশুলিয়ায় বাসে হত্যা: মামলার বাদী হত্যাকা-ের অন্যতম পরিকল্পনাকারী

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়ায় বৃদ্ধ বাবাকে বাস থেকে ফেলে দিয়ে মেয়ে জরিনা খাতুনকে (৪৫) হত্যার ঘটনার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হচ্ছে। জানা গেছে, শাশুড়ি জরিনাকে হত্যা করার অন্যতম পরিকল্পনাকারী মেয়ে জামাই নূর ইসলাম। শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তদন্তকারী সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

তদন্তে নেমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানতে পেরেছে, পারিবারিক কলহের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। আর বাস থেকে ফেলে শাশুড়িকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তারই জামাই নুর ইসলাম। এজন্য বাসচালকের সঙ্গে ১০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন তিনি।

এই অভিযোগে মেয়ের জামাই নুর ইসলাম, জামাইয়ের মা আমেনা বেগম ও মামা মো. স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাটি। তবে অভিযুক্ত বাসচালক ও তার তিন সহযোগীকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঘটনার এক সপ্তাহ পর শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

গত ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় আশুলিয়ায় টাঙ্গাইলগামী একটি বাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয় জরিনা খাতুনকে। এ সময় বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল তার বাবা ৭০ বছরের বৃদ্ধ আকবর আলী ম-লকেও। আকবর আলীর কাছে খবর পেয়ে সেই রাতে মরাগাঙ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের পাশ থেকে তার মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরেরদিন তার মেয়ের জামাই নুর ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলাটি করেন। অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।

ডিআইজি বলেন, জরিনা হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ছিলেন নূর ইসলাম। অথচ তিনি নিজেই হত্যা পরিকল্পনাকারীদের একজন। এই পরিকল্পনায় আরও জড়িত ছিলেন নূর ইসলামের মা আমেনা বেগম এবং মামা স্বপন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে টাঙ্গাইলগামী একটি মিনিবাস ও বাসের ড্রাইভার, কন্ট্রাক্টর ও দুই হেলপারকে ভাড়া করে। বাসটি আগে থেকেই আশুলিয়ার শিমুলতলী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ওই বাসে জরিনার মা ও তার বাবাকে তুলে দেন নূর ইসলাম। পরে বাস থেকে নানা শ্বশুরকে ফেলে দিয়ে শাশুড়িকে হত্যা করে। শুক্রবার রাতে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার পরিকল্পনাকারী নূর ইসলাম (২৯) ও তার মা আমেনা বেগম (৪৮) এবং মামা স্বপন (৩৫) কে গ্রেফতার করে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বাসটিও জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় আরও ৪ আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের সংবাদ সম্মেলন তিনি বলেন, ৫ বছর আগে মামা স্বপনের মধ্যস্থতায় রোজিনা ও নূর ইসলামের বিয়ে হয়। এরপর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকতো। এই বিবাদ মেটাতে জরিনা প্রায়ই আশুলিয়ায় আসতেন। সম্প্রতি কলহ প্রকট আকার ধারণ করে। এজন্য নূর ইসলাম তার মা আমেনা বেগম ও মামা স্বপনের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে। তারা পরিকল্পনা করে জরিনাকে এমন শিক্ষা দিতে হবে যেন সে আর তাদের বাড়িতে না আসে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনারদিন দুপুরে সিরাজগঞ্জ থেকে মেয়ের বাড়ি আশুলিয়ায় আসেন জরিনা ও তার বাবা আকবর আলী মন্ডল। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিকাল ৫টারদিকে তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। জামাই নূর ইসলাম তাদেরকে টাঙ্গাইলগামী একটি মিনিবাসে তুলে দেন। এই বাসটি স্বপন ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই বাসের হেলপার ও সুপারভাইজাররা আকবর আলীকে মারধর করে বাস থেকে ফেলে দেয়। এরপর জরিনাকে তারা হত্যা করে। পরে আকবর বিষয়টি নূর ইসলাসকে জানালে সে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলের ৫০০ গজ দূর থেকে জরিনার মরদেহ উদ্ধার করে।

বাসের ভেতরে জরিনাকে কীভাবে হত্যা করা হয়-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনও আমরা হাতে পাইনি। এছাড়া সরাসরি হত্যায় অংশ নেওয়া ৪ জনকে গ্রেফতার করা যায়নি। শিগগিরই বাকি ৪ আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে জরিনাকে হত্যা করা হয়েছে।’