আশুলিয়ায় নিহত টিপুর খন্ডিত মাথা উদ্ধার, হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি, চাকু জব্দ

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার একটি শাখা সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া মস্তকবিহীন আট টুকরো লাশের পরিচয় পাওয়ার পর এবার খন্ডিত মাথা (মস্তক) ওই এলাকার একটি কক্ষ হতে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি, চাকু, রক্তমাখা প্যান্ট-শার্ট, বাথরুম থেকে রক্তমাখা কাঁথা, ২টি মোবাইল সেট, কিছু ব্যবহৃত সিম জব্দ করেছে পুলিশ। তবে হত্যায় জড়িত মূল ঘাতকদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে আশুলিয়া থানা পুলিশ নিশ্চিন্তপুর এলাকার আলী খাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি কক্ষের ড্রামের ভিতর থেকে খ-িত মস্তক উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, আটক মানিকের তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিশ্চিন্তপুর মোহাম্মদ আলীর নতুন নির্মিত একটি কলোনীর বাবুল নামে এক ভাড়াটিয়ার কক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু, একটি চাপাতি, ভিকটিম মেহেদীর ২টি মোবাইল, তার খন্ডিত মাথা, রক্তমাখা প্যান্ট-শার্ট, বাথরুমের ভিতর বালতিতে রাখা রক্তমাখা কাঁথা ও কিছু মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, হত্যাকারিরা পেশাদার খুনি। ঘটনায় বাবুলসহ হত্যায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ঘটনাটি কি শুধু টাকার জন্য, না প্রেমঘটিত এ বিষয় তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, আটককৃত মানিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিশ্চিন্তপুর এলাকার আলী খাঁর ভাড়া বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি তালবদ্ধ কক্ষের ভিতর থেকে নিহত যুবকের রক্তমাখা জামাকাপড়, হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র এবং বিচ্ছিন্ন মস্তকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিহত মেহেদি হাসান টিটু একটি এমএলএম কোম্পানীর প্রতানার শিকার হয়েছে। পঞ্চাশ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে দ্রুত বড়লোক বানানোর কথা বলে ভিশন এইড নামে একটি এমএলএম কোম্পানিতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও সেখান থেকে অর্থ না আসায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনার জের ধরেই পোশাক শ্রমিক মেহেদি হাসান টিপুকে হত্যা করে লাশটি গুম করার জন্য টুকরো টুকরো করে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বরফ দিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে রাতের আধাঁরে সুযোগ বুঝে মৃতদেহটি পার্শ্ববর্তী রাস্তায় ফেলে দেওয়া হলেও মস্তকটি ড্রামের ভিতরে থেকে যায়।
প্রাথমিকভাবে নিহতের স্ত্রী মৃতদেহটি এবং উদ্ধারকৃত মস্তকটি তার স্বামীর বলে দাবি করলেও এগুলো ডিএনএ টেস্টের জন্য ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে মৃতদেহ এবং উদ্ধারকৃত মস্তকের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ মিলে গেলেই পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ জানান, ৯ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ থাকা টিপুর স্বজনরা থানায় লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ছুটে আসেন। পরে নিহতের স্ত্রী সম্পা বেগম মৃতদেহটি সনাক্ত করেন। পরে ১২ নভেম্বর রাতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মানিক নামের একজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতকে আদালতে পাঠালে বিজ্ঞ আদালত ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বর্তমানে সে আশুলিয়া থানায় পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার সকালে নিশ্চিন্তপুর এলাকার শাখা সড়কের পাশ থেকে মাথাবিহীন পলিথিনে মোড়ানো ৭ টুকরা মানবদেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ উদ্ধারর করে পুলিশ। নিহতের স্ত্রী সম্পা বেগম আশুলিয়া থানায় এসে মৃতদেহটি তার স্বামী মেহেদী হাসান টিপুর বলে সনাক্ত করেন। এর আগে আশুলিয়া থানায় ১০ নভেম্বর নিখোঁজ ডাইরী করেছিল স্ত্রী সম্পা বেগম। সেখানে একটি অচেনা নম্বর থেকে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। পরে পুলিশ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানিক নামে একজনকে ওই এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
নিহতের নাম মেহেদি হাসান টিপু (২৫)। সে যশোরের বাঘারপাড়া থানাধীন অন্তরামপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকির ছেলে। সে স্থানীয় হামিম গ্রুপের শ্রমিক ছিল। টিপু নিশ্চিন্তপুর এলাকার পারভীন ভিলায় ভাড়া থাকতো অনন্ত গ্রুপের শ্রমিক স্ত্রী সম্পা কে নিয়ে। নিখোঁজের দিন সন্ধ্যায় মানিক নামে একজন টিপুকে ডেকে নিয়েছিল।