সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প অনুমোদন

 :

 বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এর জন্য ২টি হেলিকপ্টার ক্রয় প্রস্তাবসহ চার হাজার ২২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ক্রয় প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক সাংবাদিকদের জানান।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এর অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের একটি প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে দুই হাজার ১১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে আসা জিটুজি (সরকার টু সরকার) পদ্ধতিতে রাশিয়া থেকে দুটি হেলিকপ্টার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ৪১৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে হেলিকপ্টার দুটি সরবরাহ করবে জেএসসি রাশিয়ার হেলিকপ্টার্স কোম্পানি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত দুর্গম পার্বত্য এলাকায় নজরদারি বাড়াতেই হেলিকপ্টার কেনা হচ্ছে। ক্রয় প্রস্তাবে বলা হয়েছে-এমআই সিরিজের হেলিকপ্টারগুলো দুর্ঘটনায় পড়ার হার কম এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পাইলটরা এটির সঙ্গে বেশ পরিচিত। হেলিকপ্টারগুলো দুর্গম অঞ্চলে সৈনিক মোতায়েন, পণ্য পরিবহন, উদ্ধার তৎপরতা এবং দুর্গম এলাকায় নজরদারি বাড়াতে ব্যবহার করা হবে।

সূত্র জানায়, গত নভেম্বরে বিজিবির জন্য জিটুজি পদ্ধতিতে রাশিয়া থেকে দুটি হেলিকপ্টার কেনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর এমআই ১৭১এসএইচ (মিলিটারি ভার্সন) পরিবর্তে এমআই ১৭১ই (সিভিল ভার্সন) হেলিকপ্টার সরবরাহ করতে রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা হয়।

জেএসসি রাশিয়ার হেলিকপ্টার কোম্পানি এ দুটি হেলিকপ্টার চালানোর জন্য কারিগরি সহযোগিতা দেবে। হেলিকপ্টারের গতি হবে সর্বোচ্চ ২৫০ কিলোমিটার, ফ্লাইট সার্ভিস সিলিং হবে ৬০০০ মিটার এবং ওজন হবে ১৩ হাজার কেজি। এসব হেলিকপ্টারে একজন স্টুয়ার্ডসহ ২৬ যাত্রী পরিবহন এবং বেল্টে ঝুলিয়ে পণ্য পরিবহনের সুবিধা আছে।

বৈঠকে সরকার ৫৪ কোটি ৯৯ হাজার ব্যয়ে ৭ লাখ ৪০ হাজার ৬৪০টি কম্বল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বছর দেশে শীতের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় শীতার্ত, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য এসব কম্বল সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি কম্বলের সর্বনিম্ন দাম ধরা হয়েছে ৭৪১ টাকা থেকে ৭৪৪ টাকা। সর্বনিম্ন পাঁটি দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫ লটে এসব কম্বল কেনা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-মেসার্স তালুকদার অ্যান্ড কো., স্ট্যান্ডার বিজনেস লাইন, মের্সাস প্রভাতী অ্যান্ড কো., মের্সাস কাজলা ট্রেডিং, মের্সাস তালুকদার অ্যান্ড কোং।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জন্য ৫০ হাজার টন গম আমদানির একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি টনের দাম ২০১ দমমিক ৯৩ ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ১২২ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ২৫ হাজার টন ব্যাগড প্রিল্ড ইউরিয়া সার মোংলা বন্দরের মাধ্যমে আমদানির একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এত ব্যয় হবে ৯ কোটি ২২ লাখ টাকা। এছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এক লাখ টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অপর একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩৩৪ কোটি ৫ লাখ টাকা।