ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ড্রাগন ফল

বিদেশি ফল হলেও ড্রাগন ফলের সতেজ করা স্বাদ ও পুষ্টিগুণের জন্য বাংলাদেশেও এখন এই ফল চাষ হচ্ছে। এই ফল দেখতে খুব আকর্ষনীয় কিন্তু এর কার্যকারিতা ও সুফলতা অনেক বেশি।

এ ফলকে পিটাইয়া, টিহায়া ইত্যাদিও নামে ডাকা হয়। ড্র্রগন ফল গাছ শুধুমাত্র রাতে ফুল দেয়। এশিয়ার মানুষের কাছে এ ফল অনেক জনপ্রিয়, হালকা মিষ্টি-মিষ্টি। ড্রাগন ফল দেখতেও অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর।

এই ফলে আমাদের শরীরের বয়স বাড়ার চিহ্ন দূর করা থেকে শুরু করে ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে এই ফল। গর্ভবতী মায়েরাও খেতে পারেন সুস্বাদু ড্রাগন।

আসুন জেনে নিই ড্রাগন ফলের কিছু উপকার…

১. বয়সের ছাপ দূর করা:

ত্বককে দৃঢ় রাখতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দরকার হয় শরীরের। এগুলো ক্যান্সারের সঙ্গেও লড়াই করে। ভিটামিন-সি এর উপস্থিতির কারণে ড্রাগন ফলকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের বড় উৎস মনে করা হয়।

২. ক্যান্সার প্রতিরোধ:

২০১১ সালে এশিয়া প্যাসিফিক জার্নাল অব ক্যান্সার প্রিভেনশনে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ‘লাইকোপেনে’ নামক পুষ্টি উপাদান গ্রহণ না করলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে উপাদানটির ব্যাপক উপস্থিতির কারণেই ড্রাগনের রং লাল হয়।এছাড়াও ড্রাগনে রয়েছে ক্যারোটিন। যা শরীরে থাকা টিউমার ধ্বংস করতে পারে।

৩. হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখে:

খাদ্যে আঁশের পরিমাণ বেশি থাকলে পরিপাক প্রক্রিয়া ঠিক ভাবে কাজ করে। উচ্চ আঁশের ড্রাগন ফল তাই কোষ্ঠকাঠিন্য এবং বদহজম প্রতিরোধেও কার্যকর।

৪. রোগ প্রতিরোধে:

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সব উপাদানই রয়েছে ড্রাগনে। বিশেষত এর প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি কার্যকর রাখে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে। এছাড়া এ ফলে মিনারেলস, পাইটোঅ্যালবুমিনও রয়েছে উচ্চ পরিমাণে।

নিয়মিত খেলে এই বিদেশি ফলটি আপনার স্বাস্থ্য ভাল করবেই। কারণ উল্লিখিত পুষ্টি উপাদান ছাড়াও ড্রাগনে রয়েছে ভিটামিন বি-১, বি-২ ও বি-৩; ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, প্রোটিন এবং নিয়াসিন।

৫. সুস্থ হৃদপিণ্ড:

খারাপ কোলেস্ট্রোরল কমানোর মাধ্যমে হৃদযন্ত্র ভাল রাখে ড্রাগন। ভাল কোলেস্ট্রেরলও বাড়ায় এ ফল। ২০১০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে ড্রাগন খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

৬. ডায়াবেটিস:

বেশি পরিমাণে আঁশ থাকায় ড্রাগন খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থিতিশীল থাকে। শরীরে শর্করা বাড়লে কমাতেও পারে ড্রাগন। গবেষকরা বলছেন, খাদ্য তালিকায় নিয়মিত ড্রাগন থাকলে ডায়াবেটিস সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব।