সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে সাংসদের ডিও

ইমদাদুল হক : সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতাসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাভার উপজেলার প্রায় ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমানের কাছে লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সাংসদ ডা: এনামুর রহমান গত ৭ আগস্ট তার স্বাক্ষরিত ডিও লেটারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছেন। এ সুপারিশের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো: ইউসুফকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ আগস্ট সাভার উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন প্রধান শিক্ষক একত্রিত হয়ে একটি প্যাডে তাদের স্বাক্ষরিত স্থানীয় সাংসদ ডা: এনামুর রহমান ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচারণ, নিয়মকানুনের নানা বাহানায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অন্যান্য শিক্ষক/কর্মচারীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা ভোগ করেন। প্রশাসনিক ভয়ভীতি দেখিয়ে শুধু এমপিওভুক্তির জন্য প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সহকারী গ্রন্থাগারিক, অফিস সহকারী ও কম্পিউটার শিক্ষকদের নিকট হতে অনলাইন আবেদন অগ্রায়ণ কাজে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, সরকারী বই বিতরণের সময় কিন্ডারগার্ডেনকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রচুর পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দুর্নীতিবাজ অসৎ হিসেবে আখ্যয়িত করেন। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান শিক্ষকরা। ওই দিনই স্থানীয় সাংসদ ডা: এনামুর রহমান স্বাক্ষরিত (ডি.ও নং-এমপি ১৯২/২০১৮/০০৭২৮) স্মারকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে সাভার উপজেলা হতে বদলী করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো: ইউসুফ বিষয়টি তদন্ত করছেন বলে জানা গেছে।

 

অভিযোগকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা হলেন, রেডিও কলোনী মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক এইচ এম শাহ আলম, ব্যাংক টাউন অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জহিরুল ইসলাম, ভাকুর্তা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোল্লা নজরুল ইসলাম, বিরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো: হেলাল উদ্দিন তরফদার, গকুলনগর উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো: ইয়াদ আলী, সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রতন পিটার গমেজ, সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক এস এম রফিকুজ্জামান, শিমুলিয়া এসপি হাইস্কুল প্রধান শিক্ষক ইয়ার হোসেন, শুকুরজান জিন্নাত আলী হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক নওশের আলী, ফারুকনগর ইসমাইল বেপারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো: ফরিদ হোসেন, ইছরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল আউয়াল, মাদারটেক উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মহিবুর রহমান, অঞ্জনা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক প্রধান শিক্ষক জুলহাস উদ্দিন, ইয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার, আলহাজ্ব জাফর বেপারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ফারুক আহম্মেদ, গোয়াইলবাড়ী ইচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুর রউফ, নয়ারহাট গণবিদ্যাপিঠ  হাইস্কুলের প্রদান শিক্ষক মো: ইসহাক হোসেন, পলাশবাড়ী হাজী জয়নুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো: কামরুজ্জামান, ঘুঘুদিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম, গাজীরচট আলীম মাদ্রসার অধ্যক্ষ মাহবুবুল হাসান, মীরপুর মফিদ ই আম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো: আব্দুল মালেক, কোন্ডা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক কলিমউদ্দিন, আশুলিয়া হাজেরা খাতুন দাখিল মাদ্রসার সুপার সরাফতউল্লাহসহ ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এ অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেন।

সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাভার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক এস এম রফিকুজ্জামান অভিযোগের কথা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন্নাহারকে আমার স্কুলের আইসিটি শিক্ষিকা মোসা: দিলরুবা তুলির এমপিওভুক্তির কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পাঠানোর জন্য ৫০ হাজার টাকার ঘুষ দিতে হয়েছে। ঘুষের টাকা না দেওয়াতে শিক্ষা কর্মকর্তা ওই শিক্ষিকাকে দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকে বলে জানান তিনি। তিনি শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ করেন, সরকারী বই দেওয়ার সময় বিভিন্ন কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের প্রধানদের কাছ থেকে বিভিন্ন ছলনার মাধ্যমে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা: কামরুন্নাহার অভিযোগগুলোর বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, কিছু অসাধু শিক্ষকরা আমার কাছ থেকে সুবিধা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষিকা দিলরুবা তুলির কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে এমপিওভুক্তির কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এই অভিযোগটি এড়িয়ে গিয়ে তিনি স্বীকার করে বলেন, শিক্ষিকাকে কয়েকদিন তার দপ্তরের ঘুরতে হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাভার উপজেরা নির্বাহী অফিসার শেখ রাসেল হাসান বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি অবিযোগের তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি এ অভিযোগের কোন সত্যতা পাননি বলে জানান। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।