দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ‘চুপ’ ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি

চার কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি একেএম শামীমসহ ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাজধানীর সেগুনাবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। বিকেল সোয়া ৪টায় তারা দুদক কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান। তবে এ সময় বাইরে অপেক্ষারত সাংবাদিকের কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি তারা। দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবালের সই করা এক চিঠিতে ফারমার্স ব্যাংকের এই কর্মকর্তাদের তলব করা হয়েছিল।
সাবেক এমডি ছাড়া অন্য পাঁচ কর্মকর্তা হলেন ফারমার্স ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ অফিসার উম্মে সালমা সুলতানা, অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউদ্দিন আসকারী আহমেদ, সাবেক ম্যানেজার (অপারেশ) ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক হেড অব বিজনেস ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ গাজী সালাউদ্দীন এবং ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়।
বিশেষ পুলিশ সুপারকে (ইমিগ্রেশন) দুদক থেকে পাঠানো চিঠিতে তারা যেন বিদেশ যেতে না পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেনের সই করা চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়েছে। এই ছয়জন সপরিবারে দেশত্যাগের চেষ্টা করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের দেশত্যাগ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে টাঙ্গাইলের স্কুলশিক্ষক মো. শাহজাহান ও কৃষক নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে তলব করেছিল দুদক। এই দুজন দুই কোটি করে চার কোটি টাকা ঋণ নেন বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে। পরে দুটি ঋণ অ্যাকাউন্ট থেকে সেই টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে পাঠানো হয় সোনালী ব্যাংকের হাইকোর্ট শাখায় থাকা ‘রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
এ ঘটনায় গত ৬ মে দুদকের কর্মকর্তারা এই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ফারমার্স ব্যাংক থেকে দুই কোটি টাকা করে ঋণ নিয়েছিলাম। সেজন্য আমাদের ডেকেছিল (দুদক)। আমরা ফারমার্স ব্যাংক গুলশান শাখা থেকে লোন নিয়ে রঞ্জিত বাবুকে দিয়েছি। রঞ্জিত বাবু আমার ফ্রেন্ড। রঞ্জিত বাবুকে আমি টাকা দিয়েছি। উনি এই টাকা কাকে দিয়েছেন, আমি জানি না। আমি রঞ্জিত বাবুর জমি মর্টগেজ রেখেছি।’
নিজেকে রঞ্জিত বাবুর ভাতিজা পরিচয় দিয়ে নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা বলেন, “রঞ্জিত বাবু আমার চাচা। উনি আমাকে বলছেন, ‘আমি লোন তুলে দিয়েছি। আমি কৃষিকাজ করি।’ এর বেশি কিছু জানি না।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে রাজধানীর উত্তরার একটি বাড়ি শান্তি রায় নামের এক নারীর কাছে বিক্রি করেন ‘রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’। শান্তি রায়ের স্বামী রঞ্জিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যক্তিগত সহকারী। ওই বাড়ি কেনার টাকা পরিশোধের জন্য রঞ্জিতের জমি মর্টগেজ রেখে শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা চার কোটি টাকা ঋণ নেন। আর এই ঋণের টাকা দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ‘রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়।
তবে দুদক সূত্রে জানা গেছে, জমি মর্টগেজ রেখে ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হলেও ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম রয়েছে। কোন উদ্দেশ্যে এই অনিয়ম করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখছেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে বন্ধু ও চাচা রঞ্জিতের কথায় রঞ্জিতেরই জমি মর্টগেজ রেখে কেন শাহজাহান ও নিরঞ্জন ঋণ নিয়েছেন, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।