রংপুর দুই নারীনেত্রীর মধ্যে হাতাহাতি: চেয়ারম্যানের রুমে তালা দিয়ে বিক্ষোভ

রংপুর সংবাদদাতা : রংপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শাফিয়া খানম এবং জেলা পরিষদ সদস্য ও একই দলের নেত্রী পারভীন আকতারের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে হাতাহাতি ও অশ্লীল বাক্য বিনিময়ের ঘটনার পর আরও তিক্ততা ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদের সদস্য ও তাদের সমর্থকরা চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং বিক্ষোভ করেন। ঘটনার জন্য দুই নেত্রীই পরস্পরকে দায়ী করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রংপুর জেলা পরিষদে প্রকল্প কাজের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাফিয়া খানম এবং জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পারভীন আকতারের মধ্যে চুলোচুলি, মারামারি, অশ্লীল বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে বিক্ষুব্ধ পরিষদের সদস্যরা আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। কোনও অবস্থায়ই চেয়ারম্যানকে তার চেম্বারে বসতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় সকাল থেকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।.

মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফিয়া খানম পুলিশি পাহারায় জেলা পরিষদ চত্বরে এসে নিজের কার্যালয়ে তালা ঝোলানো দেখতে পান। এসময় পুলিশের সহায়তায় তালা খোলার চেষ্টা করলে জেলা পরিষদ সদস্য ও মহিলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ধাক্কাধাক্কি চলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশি পাহারায় চেয়ারম্যানকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর ২টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আসেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেন। তবে জেলা পরিষদের সদস্যরা পুরো ঘটনার জন্য চেয়ারম্যানকে দায়ী করে। তারা চেয়ারম্যান আর সদস্যের মধ্যে মারামারির ঘটনা অফিসের সিসি টিভি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।.

এদিকে জেলা পরিষদের সদস্য পারভীন আকতার দাবি করেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ব্যাপারে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে আমি তার চেম্বারে গেলে তিনি চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এর প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান তার চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করে আমার পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় আমিও প্রতিরোধ করার চেষ্টা করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে কে আগে চড়াও হয়েছে। এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যানকে অফিসে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’.

জেলা পরিষদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম পুরো ঘটনার জন্য চেয়ারম্যানকে দায়ী করে বলেন, ‘তার স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডের কাছে আমরা জিম্মি। তিনি গত দুই বছরের অনেক প্রকল্প বন্ধ করে রেখেছেন। কাজ করতে দেন না। প্রতিবাদ করলেই আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। চেয়ারম্যানের অসৌজন্যমূলক আচরণের বিচার না হলে আমাদের আন্দোলন চলবে।’.

সোমবারের ঘটনায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য দুজনই পৃথকভাবে কোতোয়ালি থানায় পরস্পরের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ দায়ের করেছে। কোতোয়ালি থানার এসআই ফেরদৌস আহাম্মেদ  জানান, ‘আমরা দুটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফিয়া খানমের সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে কথা বলার জন্য সাংবাদিকরা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার চেম্বারে গেলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কোনও কথা বলবেন না। তবে সোমবার রাতে তিনি এ প্রতিনিধির কাছে দাবি করেছিলেন, জেলা পরিষদ সদস্য পারভীন আকতার তার ওপর হামলা চালিয়ে তার গলার সোনার চেন ছিঁড়ে ফেলে এবং তাকে মারধর করে। অফিসের সিসি ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে চেয়ারম্যান তার চেয়ার থেকে উঠে এসে পারভীনকে মারধর করছেন, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ার থেকে উঠে চলে যান।