বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে ভারতীয় নীতি পরিবর্তনের আশ্বাস

নেপাল ও ভুটানসহ অন্য দেশ থেকে ভারতের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ আনার ক্ষেত্রে নীতির পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে ভারতের প্রতিনিধি দল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।  সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেটের রোজ ভিউ হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক এই আশ্বাস দেওয়া হয়।

বৈঠকে  ওয়ার্কিং গ্রুপে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) ফয়জুল আমিন ও ভারতের পক্ষে দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিজ ভারতী।

এদিকে, মঙ্গলবার ভারতের বিদ্যুৎ সচিব অজিত কুমার বালা ও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত গুলো চূড়ান্ত হবে।

বৈঠক সূত্র জানায়, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশ অর্থাৎ নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়।ভারত সরকারের নীতির কারণে এতদিন বাংলাদেশ প্রতিবেশী কোনও দেশ থেকে বিদ্যুৎ আনার ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ সফল হচ্ছিল না। বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, গতবছর ভারত প্রতিবেশী দেশ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধি-নিষিধ আরোপ করে একটি নীতি করেছে।ওই নীতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দুই দেশ বিদ্যুৎ বিনিময় করতে চাইলে সেই কেন্দ্রে ভারতের সরকারি বেসরকারি কোম্পানির অংশিদারিত্ব থাকতে হবে।একইভাবে ভারতের কোম্পানিকে সঞ্চালনের দায়িত্ব দিতে হবে।ভারতের এই নীতির কারণে নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি ঝুলে রয়েছে এখনও।এ জন্য ভুটানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক চুড়ান্ত হলেও সই করা যাচ্ছিল না।অন্যদিকে নেপালের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তাতেও ভারতের অংশগ্রহণ প্রয়োজন ছিল।

এ নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতকে নীতি পরিবর্তন করার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। সোমবারের বৈঠকে বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হলে ভারতের প্রতিনিধিরা জানান, এ সংক্রান্ত আগের নীতিটি পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন নীতিতে দ্বিপক্ষিক নীতি পরিবর্তন করে ত্রিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক নীতি করছে তারা।এ সংক্রান্ত নীতির খসড়া করা হয়েছে।বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করেই নীতিটি চূড়ান্ত করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।

এদিকে, প্রথমবার যখন বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করেছিল তখন বাংলাদেশকে কোনও কর দিতে হয়। কিন্তু পরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আমদানি বৃদ্ধি করলে ভারত কর আরোপ করে। তখন থেকেই বাংলাদেশ এর বিরোধিতা করে আসছিল।বৈঠকে কর প্রত্যাহারের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।ভারত এক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে সূত্র জানায়।

তবে আগের বৈঠকগুলোতে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তাদের বিদ্যুৎ বিভাগের একার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। তারা বিষয়টি ভারতের রাজস্ব বিভাগকে জানাবে বলে জানিয়েছিল। সোমবারের আলোচনায় ভারতের প্রতিনিধি দল জানিয়েছে কর প্রত্যাহারের বিষয়ে তাদের সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। ভবিষ্যতে যেন বিদ্যুৎ আমদানিতে কর না থাকে বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন।

এ বিষয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান যুগ্মসচিব (উন্নয়ন) ফয়জুল আমিন জানান, ‘ভারত তাদের বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনবে।এ সংক্রান্ত একটি খসড়ানীতিও করেছে।আমাদের সঙ্গে আলোচৃনা করেই তা চূড়ান্ত করা হবে।’ কর প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি জানান, ‘এ  বিষয়েও আশ্বাস পাওয়া গেছে।’