কালিয়াকৈরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের অপেক্ষায় ‘বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি রেল স্টেশন’

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির পাশে মাকিষবাথান এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি রেলস্টেশন। মূলত কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রেল স্টেশনটি নির্মাণ করা হলেও সাধারণ জনগণ এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে বলে। ইতিমধ্যেই রেলস্টেশনটির নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোনের অপেক্ষায় রয়েছে রেলস্টেশনটি বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। এই রেলস্টেশনের জন্য অর্থ সহায়তা দিয়েছেন জিওবি নামক একটি প্রতিষ্ঠান।

বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই তথ্য প্রযুক্তিখাতে উন্নয়নের জন্য বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক দেশেই আইটি পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মাকিষবাথান, জানেরচালা ও বক্তারপুর এলাকায় কয়েকশত একর জমির উপর বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি গড়ে তোলা হয়। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে আইটি বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন আইটি ডিভাইসসহ নানা ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করবেন। ইতিমধ্যে ‘ডাটা সফট’ নামের একটি কোম্পানী তাদের তৈরি সফটওয়্যার বিদেশে রপ্তানি শুরু করেছে।

বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৭০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের লক্ষ নিয়ে হাইটেক সিটির কাজ এগিয়ে চলছে। আর এসব কোম্পানিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানসহ গাজীপুর জেলা শহর থেকে যেন অল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে যাতায়াত করতে পারেন এবং যথাসময়ে বাসায় ফিরতে পারেন এজন্য হাই-টেক সিটির পশ্চিম পাশে একটি অত্যাধুনিক রেলস্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর ও মৌচাক স্টেশনের মধ্যবর্তী কালিয়াকৈরে ৩৪ কোটি ৮৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৪ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয়েছে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত একটি বি-ক্লাশ রেল স্টেশন। অতিচমৎকার এ রেলস্টেশনটি আকারে ছোট হলেও এর মূল ডিজাইন রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের আদলে করা হয়েছে। ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি এবং হাইটেক সিটি থেকে রাজধানীতে কয়েক ধাপে ডেমু ট্রেন চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হবে এই রেলস্টেশন। এছাড়া রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ও ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী সকালে দু’টি আর বিকালে দুইটি আন্তঃনগর ট্রেনে এই রেলস্টেশন থেকে যাত্রী উঠা নামার জন্য উর্ধ্বতন রেল কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব করা হয়েছে।

আসন্ন জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কালিয়াকৈর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম রাসেল বলেন, কালিয়াকৈরে এ ধরণের রেলস্টেশন নির্মাণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কালিয়াকৈরবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই রেলস্টেশনটি চালু হলে গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, টঙ্গীর শত শত শ্রমিক অনায়াসে ট্রেনে উত্তরবঙ্গ হতে ঢাকা আর ঢাকা হতে উত্তরবঙ্গে যাতায়াত করতে পারবে। এতে মহাসড়কের উপর অনেকটা চাপ কমবে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলস্টেশনটি উদ্বোধন করবেন বলে কালিয়াকৈরবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

রেল স্টেশন নির্মাণাধীণ প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাষ্টাকচার লিমিটেড এর প্রকৌশলী সাইদুল ইসলাম জানান, রেল স্টেশনের কাজ শেষের পর্যায়ে। রেল কর্তৃপক্ষের নিদের্শমতে ত্রুটি কিংবা কিছু বর্ধিত কাজ করা হচ্ছে। খুব দ্রুত এই রেল স্টেশনটি রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিতে পারবো বলে আশা করছি।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এই রেলস্টেশনে সাধারণ যাত্রীদের কথা চিন্তা করে ঢাকা ও রাজশাহীগামী আন্তঃনগর ট্রেন থামিয়ে যাত্রী উঠা ও নামার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে রেল স্টেশনটি প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।