নাশকতা মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অরাজকতা ও নাশকতারোধে প্রস্তুত পুলিশ। কারো বিরুদ্ধে অরাজকতা কিংবা নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের শীর্ষ  কর্মকর্তারা। সন্দেহভাজন নাশকতাকারীদের তালিকাও তৈরি করছে পুলিশ।

পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, ‘নির্বাচন ঘিরে যেন অরাজকতা ও নাশকতা না হয় সেজন্য পুলিশের যথাযথ প্রস্তুতি রয়েছে। কোনো হুমকিও বরদাশত করা হবে না। আবার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্কও নেই। পুলিশ কখনও কোনো নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে না। মামলার আসামি বা যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা থাকে শুধু তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে সারা দেশে যেভাবে মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়েছে তা বড় ধরনের অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ যেন না হয় এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আমরা যেকোনো ধরনের পরিস্থিতিও মোকাবিলা করবো সমন্বিত উদ্যোগে।’

গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) এক অনুষ্ঠান শেষে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বদ্ধ পরিকর। এরপরও কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ  সময় আবার সাইবার ক্রাইমের মতো অপরাধও বেশি সংঘটিত হতে পারে। তবে তা নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দারা।’

অপরদিকে গত সপ্তাহে পুলিশ সদর দফতরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নির্বাচনকালীন যেকোনো ধরনের নাশতকারোধে পুলিশকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। মিছিল-সমাবেশের নামে কেউ যদি আইন লঙ্ঘন করে মিছিল বা সমাবেশ করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি মহানগরসহ গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা ও জেলাভিত্তিক পুলিশ কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে ৩০ হাজার পুলিশ সদস্যের সবাইকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, সম্পদ রক্ষা, সরকারি স্থাপনা রক্ষা করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। আবার অতীত অপরাধ বিবেচনা করেও নাশকতাকারিদের তালিকা করা হচ্ছে থানায়-থানায়। এসব কাজ পুলিশের সঙ্গে গোয়েন্দারাও কাজ করছে। পুলিশের বিশেষ ইউনিটগুলো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সমন্বিত কাজ করছে। র‌্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়নও তাদের প্রস্তুত শেষ করেছে বলে জানা গেছে।