তাবলিগ জামাতের দ্বন্দ্ব নিরসনে সরকারের ৫ নির্দেশনা

দ্বীনি দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালিত সংগঠন তাবলিগ জামাতের অনুসারিদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। বাংলাদেশ ও ভারতের দেওবন্দসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেমদের সঙ্গে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের আমির হজরত মাওলানা সাদ কান্ধলভির বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। যা বাংলাদেশের তাবলিগের সাথীদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সংকটে তাবলিগ জামাত, আহমদ শফীর উদ্যোগ কী ভেস্তে যাবে কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের ৬ মুরব্বির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫টি নির্দেশনা প্রদান করে এক পরিপত্র জারি করে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এ পরিপত্রে বলা হয়েছে, তাবলিগ জামাতের চলমান দ্বন্দ্ব ও সংকট নিরসন করে উভয়পক্ষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক অপপ্রচার বন্ধ করে একে অপরের প্রতি সহনশীল মনোভাব পোষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

দ্বন্দ্ব ও সংকট নিরসনে সরকারের ৫ নির্দেশনা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দেলোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত এ পরিপত্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং দাওয়াত ও তাবলিগের কাজকে সুন্দরভাবে সম্পাদন করতে বলা হয়েছে।

পরিপত্রের নির্দেশনাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো:

১. নির্দেশাবলী

ক) বর্তমানে তবলিগে বিদ্যমান দুটি পক্ষ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা পরামর্শক্রমে কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গী ইজতেমা ময়দানসহ দেশের সকল জেলা ও উপজেলা মারকাজে সপ্তাহের ভিন্ন ভিন্ন দিনে/তারিখে তাদের কার্যক্রম (সাপ্তাহিক বানি ও রাত্রিযাপন, পরামর্শ ও তালীম, মাসিক জোড় ইত্যাদি) পরিচালনা করবে।

তবে কোনো পক্ষ চাইলে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে পরামর্শক্রমে মারকাজ ব্যতিত অন্য কোনো মসজিদে/জায়গাতেও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

খ) তাবলিগের আদর্শ ও চিরাচরিত রীতিনীতি অনুযায়ী কোনো পক্ষ অপরপক্ষের বিরুদ্ধে কোনোরূপ লিখিত বা মৌখিক অপপ্রচার চালাবে না।

গ) দেশের সব মসজিদে পূর্বের ন্যায় শান্তিপূর্ণভাবে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সে লক্ষ্যে যেকোনো মসজিদে উভয়পক্ষের জামাতই যেতে পারবে। এতে কোনো পক্ষই কাউকে বাধা দিবে না।

তবে একই সময়ে দুই পক্ষের দেশি ও বিদেশি জামাত একই মসজিদে অবস্থান করা যুক্তিসঙ্গত হবে না। এক্ষেত্রে যে পক্ষের জামাত আগে আসবে সেই পক্ষের জামাত অবস্থান করবে। অন্যপক্ষের জামাত পার্শ্ববর্তী অন্য কোনো সুবিধাজনক মসজিদে চলে যাবে।

ঘ) উভয়পক্ষ তাদের ইজতেমা/জোড়ে তাবলিগের দেশি-বিদেশি মুরুব্বিদের আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। এতে এক পক্ষ অন্য পক্ষের কার্যক্রমে কোনোরূপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন।

ঙ) কোনো এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসন উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

২. উপরে বর্ণিত নির্দেশনাসমূহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে  যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

৩. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখের ০৪.০০.০০০০.৫১২.১৬.০২০.১৮-৩৬৬ নম্বর পত্রমূলে এই পরিপত্র জারি করা হলো।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এ পরিপত্রের শুরুতে আরো উল্লেখ করা হয় যে, তাবলিগ জামাত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ‘সমগ্র বিশ্বে তাবলিগের কার্যক্রম একটি আরাজনৈতিক, অহিংস, শান্তিপূর্ণ ও সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত। মুসলিম জনসাধারণ তাদের আত্মশুদ্ধি ও ইসলামের দাওয়াতে প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছেন।’

‘এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ একটি অন্যতম অগ্রসরমান দেশ বিধায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ মুসলিম জামাত ‘বিশ্ব ইজতেমা’ প্রতি বছর গাজীপুর জেলার টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে’ বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।