সাভারে কিশোর অটোরিক্সা চালক মামুন হত্যার ঘটনায় ৩ বন্ধু গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার: সাভারে আব্দুল্লাহ্ আল মামুন (১৫) নামের এক কিশোর আটোরিক্সা চালককে পিটিয়ে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মাদকসেবী বন্ধু মো: রনি (১৬)কে গ্রেফতার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। প্রায় দুই মাস পর রনিকে মঙ্গলবার ভোর রাতে চট্টগ্রাম শহরে ঢুকতে অলংকার মোড় থেকে কৌশলে গ্রেফতার করে এসআই মো: আজগর আলী। সে ঝিনাইদাহ জেলার শৈলকুপা থানা এলাকার সিংনগর গ্রামের খোকন শেখ এর ছেলে ও সাভার থেকে বিরুলিয়া-আকরান রোডে লেগুনা গাড়ীতে হেলপারী করতো বলে জানা যায়। খুনী রনিকে মঙ্গলবার সকালে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ সময় এই হত্যাকান্ডের সাথে তার আরো ৩ বন্ধু জড়িত রয়েছে বলে জানায়। রনির স্বীকারোক্তি মতে, বুধবার কাউছার (১৬) ও মাসুদ রানা (১৫) নামের আরো দু’ জনকে কিষ্টপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

খুনী রনি ও তার বন্ধুরা সকলে এক সঙ্গে মাদক সেবন করতো এবং সিনিয়ার জুনিয়ার দ্বন্দ্বের কারণে আব্দুল্লাহ্ আল মামুনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায়।

সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: আজগর আলী জানান, গত ২৫ জুলাই রাতে রিক্সাচালক আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে বিরুলিয়া ইউনিয়নের কালিয়াকৈর এলাকার একটি জঙ্গলে পিটিয়ে হত্যা করে তার মাদকসেবী চার বন্ধু। এ ঘটনায় নিহতের বাবা তাকাব্বর হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করি। এই হত্যার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত এবং কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছিল তার কোন ক্লু পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আমি সাদা পোশাকে সাভার সদর ইউনিয়নের কিষ্টপুর গ্রামে যেখানে নিহত আব্দুল্লাহ্ আল মামুন থাকতো সেখানে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করি। পরে জানতে পারি এই হত্যাকান্ডের পর নিহত মামুনের বন্ধু রনিকে আর দেখা যাচ্ছে না। পরে রনির বাসায় গিয়ে তার মা গার্মেন্টস কর্মী কল্পনা বেগমকে জিজ্ঞাস করলে জানতে পারি সে চট্টগ্রাম তার বোনের বাসায় থাকে। কল্পনা বেগম  কিছু বুঝে উঠার আগেই তাকে নিয়ে সোমবার রাতে চট্টগ্রাম রওনা হই। চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছানের পর কল্পনা বেগম তার মেয়ের জামাতা ও ছেলে রনিকে বাসায় নিয়ে যাওয়া জন্য মোবাইলে ফোন করলে তারা আসে। এ সময় রনিকে গ্রেফতার করে সাভার থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে সে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। রনির স্বীকারোক্তি মতে, বুধবার কাউছার (১৬) ও মাসুদ রানা (১৫) নামের আরো দু’ জনকে কিষ্টপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আরও ১ জন আসামীকে অতি তাড়াতাড়ি গ্রেফতার করতে পারবো বলে মনে করি। এরা সকলে এক সঙ্গে মাদক সেবন করতো বলেও তার স্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই বিরুলিয়া ইউনিয়নের কালিয়াকৈর গ্রামের একটি জঙ্গল থেকে কিশোর আটোরিক্সা চালক মামুনের লাশ উদ্ধার করে সাভার থানা পুলিশ। এর প্রায় দুই মাস পর এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে সক্ষম হয় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।