ধামরাইয়ে বন্ধুদের নিয়ে স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা

ধামরাই প্রতিনিধি: ধামরাইয়ে ভালবাসা করে বিয়ে করার পর বন্ধুদের নিয়ে স্ত্রীর গায়ে ইনজেকশন পুশ করে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ চারজনকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নান্নার ইউনিয়নের গোপাল কৃষ্ণপুর গ্রামে।

এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগি পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গোপালকৃষ্ণপুর গ্রামের আতাউর রহমানের মেয়ে রাবেয়া আক্তার ওরফে বন্যার (১৪) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে একই গ্রামের আলকাস উদ্দিনের ছেলে রাসেদুল ইসলাম (১৯)। রাবেয়া কালামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। একপর্যায়ে তারা ৮ মাস আগে পরিবারের অজান্তে বিয়েও করে। মঙ্গলবার রাতে বাবার বাড়িতেই ঘুমিয়ে ছিল রাবেয়া। রাত একটারদিকে হঠাৎ করে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার দিয়ে উঠে রাবেয়া। তার চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে মা-বাবা ও ভাই এরশাদ জেগে উঠে। এসময় রাবেয়ার হাতে ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে দেখে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এদিকে ওই রাতে ঘরের বাইরে পরে থাকা বড় আকারের সিরিঞ্জের ভিতর তরল জাতীয় ঔষধ পাওয়া যায়। গতকাল বুধবার সন্দেহবশত একই গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে বখাটে ইয়ামিনের কাছে বন্যার ভাই এরশাদ রাতের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চায় এবং তাকে চরথাপড় মারতে শুরু করে। একপর্যায়ে ঘটনায় জড়িত ইয়ামিনসহ রাবেয়ার স্বামী, একই গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের ছেলে আবু বক্কর, আলতাফ হোসেনের ছেলে রাসেল জড়িত বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য সামসুন নাহারসহ এলাকাবাসীর কাছে স্বীকার করে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী তাদের আটক করে সামসুন নাহারের বাড়ীতে রাখে। পরে তাদের অভিভাবকরা মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেয়। এ ঘটনায় রাবেয়ার বাবা বাদী হয়ে ধামরাই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। জড়িতরা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. জাকারিয়া আল আজিজ বলেন, রাবেয়ার হাতে ইনজেকশন পুশ করার চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সে ভাল আছে। এছাড়া তিনি বলেন, রাবেয়ার বাবা সিরিঞ্জের ভিতর যে ঔষধ নিয়ে এসেছিলেন তা কোন ধরনের বিষক্রিয়া তা পরিক্ষার জন্য মহাখালীর পরিক্ষাগারে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সামসুন নাহার বলেন, যখন দরকার পড়বে তখন জড়িতদের হাজির করার শর্তে অভিভাবকরা ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে। রাবেয়ার বাবা আতাউর রহমান বলেন, আমার মেয়েকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাসেদুল তার বন্ধুদের নিয়ে ইনজেকশন পুশ করেছে। আমি তাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।  এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।