পাত্রী দেখার অছিলায়…

ফুলকি ডেস্ক: দেখতে এসেছিলেন পাত্র ও তার কথিত মাসি। দরিত্র পাত্রীপক্ষ তাদের সাধ্যমত আপ্যায়নও করেছে। তবে সে আপ্যায়নে বুঝি মন পোষায়নি তাদের। তাই যাওয়ার সময় লুকিয়ে নিয়ে গেছেন পাত্রীর শখের মোবাইল ফোনটি। শুধু তা-ই নয়, দারুণ কারসাজিতে নিয়ে গেছেন আলমারিতে রাখা ৫ হাজার রূপিও। খবর জি বাংলার

ঘটনাটি কলকাতার চন্দননগরের। অভিনব প্রতারনায় হতবাক  পাত্রীর মা। তাজ্জব খোদ পাত্রীও। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত চিহ্নিত হয়নি প্রতারক চক্রটি।

চন্দননগরের ৮ নম্বর ওয়ার্ড। টালির চাল আর ক্ষয়ে যাওয়া এই ইটের ঘরটাকেই টার্গেট করে পাত্র পক্ষ। তবে এ পাত্র যে  যেসে পাত্র নয়, তা বুঝতে দেরি হয়ে যায় ছাত্রী অনুরাধা সিং ও তাঁর মা নন্দা সিং এর।

কিছুদিন আগে অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে চন্দননগর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাড়ুয়ার বছর একুশের ওই তরুণীর কাছে।  কয়েকদিন কথা বলার পর  সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেয় যুবক। শুধু তাই নয়,  বিশ্বাস আদায়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার আর্জিও করে সে। ভরসা পেয়ে বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে ওই তরুণীর পরিবার।   সুদর্শন, আর্থিক স্বচ্ছলতার ছাপ নিয়ে  বুধবার মেয়ের বাড়িতে হাজির হয় পাত্র ও পরিবারের সদস্য।  রংচটা ঘরে রঙিন স্বপ্ন দেখেন মা ও মেয়ে। বাড়িতে আর কেউ না থাকার সুযোগে গল্পও জুড়ে দেয় পাত্র  ও তার সঙ্গে থাকা মহিলা।

মেয়ের বাবা রণজিত সিং পেশায় ক্যাটারিং ব্যবসায়ী কাজের সূত্রে গুজরাটে, ভাইও বাইরে।  বাড়িতে কেউ না থাকায় অতিথিদের আপ্পায়ন করতে মেয়েকেই মিষ্টি আনতে দোকানে পাঠান মা।  মিস্টি  খেতে খেতে চলে আলোচনা। মেয়েকে দেখার পর পছন্দ হয়েছে বলে জানায় পাত্র  ও তাঁর মাসি। এরপর তারা চলে যায়। পাত্র চলে যাওয়ার পরই তরুণী দেখেন তাঁর মোবাইলটি উধাও।  মোবাইল খুঁজতে খুঁজতে  নজর  যায় আলমারিতে।  দেখেন আলমারি খোলা।  হাওয়া ব্যাগে রাখা পাঁচ  হাজার টাকাও।  মা ও মেয়ের ব্যস্ততার সুযোগে পাত্র সেজে আসা ব্যক্তি ও তার  সঙ্গে থাকা মহিলা প্রথমে মোবাইল ও পরে আলমারিতে থেকে টাকা নিয়ে পালায়।

মা ও মেয়ের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে তাঁরা প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। পুলিসে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিনব প্রতারণায় তাজ্জব পাড়া প্রতিবেশীরাও।