দুদকের নজরে সিএসডির ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী

খোলাবাজারে বিক্রি বা ওএমএস কার্যক্রমে অনিয়মের হোতাদের আর ছাড় দেবে না খাদ্য মন্ত্রণালয়। তেজগাঁও কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে (সিএসডি) রাতের আঁধারে নম্বরবিহীন ট্রাকে খাদ্যশস্য পাচারের ঘটনা র্যাবের হাতে ধরা পড়ার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এদিকে খাদ্যশস্য পাচারের ঘটনায় সিএসডির ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের সহযোগী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে গতকাল রাতে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছে র‍্যাব। এই ২৩ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠি দেবে র‍্যাব।

র‍্যাবের করা মামলার আসামিরা হলেন তেজগাঁও সিএসডির শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা আলমগীর সৈকত, সংগঠনের সভাপতি দুদু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি আলমগীর, স্টক শাখার ইনচার্জ শুকুর আলী হালদার, গেট শাখার ইনচার্জ ইউনুছ আলী ম-ল, চেকপোস্ট ইনচার্জ সুমন, ডিও শাখার ইনচার্জ কাজী মাহমুদ, প্রধান দারোয়ান হারেজ, দারোয়ার বাবুল, ঢাকার কদমতলীর মো. নজরুল ইসলাম ও পোস্তগোলার মো. জাকির হোসেন।

এ ছাড়া চোরাই চাল বেচাকেনায় জড়িত মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বন্ধু রাইস এজেন্সির মো. নজরুল ইসলাম, রাহমানিয়া রাইস এজেন্সির মো. বিল্লাল হোসেন, কর্ণফুলী রাইস এজেন্সির মো. গোলাম কিবরিয়া, জামি রাইস এজেন্সির মো. ইকবাল হোসেন, ছালেক এজেন্সির মো. সালাউদ্দিন, এশিয়ান ট্রেডার্সের মো. মিসকাতুর রহমান, সুগন্ধা ট্রেডিংয়ের মো. গোলাম মোস্তফা, মহানগর এন্টারপ্রাইজের মো. তৈয়বুর রহমান, এপি সুগন্ধার হাজী মো. হান্নান, জননী এন্টারপ্রাইজের মো. শাহ আলম ও সুর্য এন্টারপ্রাইজের মো. কবির হোসেন।

র‍্যাব সূত্র জানায়, মামলায় আসামি করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদকে প্রতিবেদন পাঠাবে র‍্যাব। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্টদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে নামবে দুদক।

জানা গেছে, ওএমএসের মতো সামাজিক সুরক্ষার এমন জনবান্ধব কর্মসূচি কলঙ্কিত করতে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আজ বুধবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এক জরুরি সভায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ সময় দুর্নীতিতে সহায়তা ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত অন্তত ১৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ শাস্তিমূলক বদলিও করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

গত ২৯ আগস্ট নির্বাচনী বছরে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বরদাশত করবেন না খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরসহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের (ডিসি ফুড) উদ্দেশে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এর মাত্র কয়েক দিন পর খোদ রাজধানীতে খাদ্যশস্য পাচারের ঘটনা ধরা পড়ল র্যাবের হাতে।

রাজধানীতে খাদ্য বিভাগের ৯ রেশনিং জোনে বছরের পর বছর ঘুরে ফিরে একই ব্যক্তিরা কীভাবে কাজ করছেন জানতে চাইলে খাদ্য বিভাগের পরিচালক (প্রশাসন) একেএম ফজলুর রহমান আমাদের সময়কে কোনো সদুত্তর না দিয়ে বলেন, মন্ত্রী মহোদয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি জানেন।

এদিকে একাধিক সূত্র বলছে, খাদ্য বিভাগের পরিচালক প্রশাসন ফজলুর রহমান অজ্ঞাত কারণে এদের সুবিধা দিয়ে আসছেন। নমুনা হিসেবে বলা যায়, ১২০৮ নম্বর প্রজ্ঞাপনে গত ১২ জুলাই ডি-৪ জোনের এরিয়া রেশনিং কর্মকর্তা (এআরও) মো. মহসিন আলীকে সহকারী উপপরিচালক পরিদর্শন, উন্নয়ন ও কারিগরি সেবা বিভাগে বদলি করা হয়। এর মাত্র ৬ দিনের মাথায় কথিত বোঝাপড়া না হওয়ায় ওই কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। এ ধরনের অনেক তথ্য-উপাত্ত আমাদের সময়ের হাতে এসে পৌঁছেছে। এই কর্মকর্তা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় কুমিল্লার নায়েরগাঁও খাদ্যগুদামে সাগরচুরি শুরু হয়। ওই সময় ৩ দফায় ২ হাজার ৮০০ টন চাল লোপাট হয় সরকারি গুদাম থেকে।

এ বিষয়ে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম আমাদের সময়কে বলেন, চাল পাচারের ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, সেটি তুলে ধরে দুদকে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।