দিনে মাত্র দু’মিনিট পেটের উপর ম্যাসাজ করলেই কমে যাবে পেটের চর্বি, শিখে নিন পদ্ধতি

১. মাটির উপর বা চৌকির উপর চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। চেষ্টা করবেন নরম গদির উপর না শুতে।

২. দু’টি হাতের পাতা পরস্পরের সঙ্গে ঘষতে থাকু‌ন যতক্ষণ না হাতের পাতা দু’টি গরম হয়ে ওঠে।

৩. পেটকে উন্মুক্ত করুন, অর্থাৎ পেটের উপরের কাপড় সরিয়ে দিন।

৪. একটি হাতের পাতা রাখুন নাভির উপরে। খেয়াল রাখবেন, হাতের আঙুল যেন ভাঁজ না হয়ে যায়।

৫. নাভিকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকারে হাতটিকে পেটের উপর বোলাতে থাকুন। প্রথমে ছোট বৃত্তের আকারে, তারপর ধীরে ধীরে বৃত্তের পরিধিটিকে বড় করতে থাকুন। হাত বোলানোর সময়ে পেটের উপর হাতের সাহায্যে মৃদু চাপ বজায় রাখবেন।

৬. মিনিট দু’য়েকের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ বার এভাবে পেটের উপর হাত বোলান। দেখবেন, পেট এবং তলপেট অঞ্চলেও এই প্রক্রিয়ার ফলে মৃদু উত্তাপ অনুভব করছেন।

৭. এই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও দু’মিনিটের মতো সময় পেটকে উন্মুক্ত অবস্থাতেই রাখুন এবং শুয়ে থাকুন। তারপর উঠে পড়ুন।

মেদহীন পেট পাবার ৩টি ব্যায়াম

মেদহীন আকর্ষণীয় পেটের অধিকারী হতে তো সবাই চান। ভুড়ি থাকলে যত দামী পোশাকই পরা হোক একেবারেই বেমানান দেখায়। বিশেষ করে

নারীরা একটি সুন্দর এবং আকর্ষণীয় মেদহীন পেটের স্বপ্ন দেখেন যা তাদেরকে আরও অনেক বেশি মোহনীয় করে তুলবে। পেটের মেদ কমানো কি খুব কঠিন কিছু? নাহ, একেবারেই নয়। মাত্র তিনটি সহজ ব্যায়ামেই পেটের মেদ কমিয়ে ফেলা সম্ভব। শিখে নিন পেটের মেদ কমানোর সহজ ৩টি ব্যায়াম।

১. সাইকেল চালানো ব্যায়াম:

এটা আসলে সত্যিকারি সাইকেল চালিয়ে ব্যায়াম করা নয়। এই ব্যায়ামটি করতে হলে আপনাকে প্রথমে মেঝেতে শুয়ে পড়তে হবে। এরপরে হাত দুটোকে

মাথার পিছনে নিতে হবে। এখন সাইকেল যেভাবে পা দিয়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে চালানো হয় ঠিক তেমনি পা দুটোকে উপরে উঠিয়ে সাইকেল চালান। এক্ষেত্রে পা দুটোকে ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে উপরে উঠিয়ে নিতে হবে। একটি পা যখন বুকের উপরে আসবে তখন আরেকটি পা মোজা উপরের দিকে উঠানো

থাকবে। এভাবে রিভার্স করে ব্যায়ামটি আধা ঘন্টা করতে হবে। সপ্তাহে ৩ দিন এই ব্যায়ামটি করলেই আপনি খুব সহজেই পেতে পারেন একটি মেদহীন আকর্ষণীয় পেট।

২. নৌকাসন ব্যায়াম:

নৌকাসন ব্যায়ামটির সাথে নিশ্চয়ই অনেকে পরিচিত। এটি সত্যিকার অর্থে নৌকা চালানো নয়। এরজন্য আপনাকে শুয়ে পড়তে হবে। হাত দুটোকে মাথার উপরে সোজা করে ছড়িয়ে দিতে হবে। পা দুটোকেও সোজা ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপরে হাত পাগুলোকে একইসাথে ৪৫ ডিগ্রি উঁচুতে তুলতে হবে

আবার তা নামিয়ে সোজা করতে হবে। হাত পাগুলোকে যখন উপরে উঠাবেন এটি দেখতে যেন অর্ধ চন্দ্রের ন্যায় হয়। এই ব্যায়ামে আপনার ভুঁড়ির উপরে চাপ পড়বে ফলে আপনার পেট কমে যাবে।

৩. উঠাবসা ব্যায়াম:

পেটের অতিরিক্ত ভুঁড়ি কমিয়ে নিতে আপনি এই উঠাবসার ব্যায়ামটিও করতে পারেন। এটি খুবই সহজ একটি ব্যায়াম। আপনি শুধু প্রতিদিন গুণে গুণে

৫০ বার বসা এবং উঠা করুন। এতে পেটে চাপ পড়ে ফ্যাট কমে যাবে। পাশাপাশি আরেকটি ব্যায়াম করা যেতে পারে সেটি হল দুটি হাত মাথার পিছনে

দিয়ে শুয়ে কোমরের উপরের অংশটুকু বারবার ৯০ ডিগ্রি উঠিয়ে বসুন আবার শুয়ে পড়–ন। এভাবে সপ্তাহে ৩ দিন ৪০ বার করে করলে আপনি পেতে পারেন একটি মেদহীন আকর্ষণীয় পেট।

রাতারাতি যে পানীয়তে কোমরের চর্বি হ্রাস পাবে!

মোটা মানুষের ভাবনার কোনো শেষ নেই। কি করলে ভালো হবে। কোনটা করলে সুস্থ্য থাকা যাবে। সব নিয়ে ভাবনার যেনো শেষ নেই। ব্যায়াম বা বা বাড়তি সময় দেয়ার চেয়ে ঘরোয়া পদ্ধতির প্রতি মানুষের বাড়তি আগ্রহ লক্ষ করা যায়। যারা বাড়তি কষ্টে স্থূলতা কমাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তাদের জন্য ঘরোয়া পদ্ধতির সুখবর।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় প্রকাশিত মেডিক্যাল একটি জার্নালে প্রকাশ পেয়েছে গবেষণাপত্র। এই গবেষণায় এমন এক ঘরোয়া পানীয়ের কথা বলা হয়েছে। যেটিতে দাবি করা হয়েছে কোমরের চর্বি রাতারাতি কমিয়ে ফেলা সম্ভব।

গবেষণাপত্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী খুব সহজেই বাড়িতেই তৈরি করা যাবে পানীয়টি। তবে তার আগে জানতে হবে কি কি লাগবে পানীয়টি তৈরি করতে। আসুন তাহলে জেনে নেই পানীয়টি তৈরির উপকরণ।

পানীয়টি তৈরি করতে প্রয়োজনীয় উপকরণ:

১. ২ চা চামচ ভিনিগার (অ্যাপেল সিডার ভিনিগার হলে ভাল হয়),

২. ১টি মৌসম্বির রস (এক জাতের লেবুর নাম মৌসম্বি)

৩. ১ চা চামচ মধু।

এবার জেনে নেয়া যাক কি করবো এই উপকরণগুলো দিয়ে। প্রথমে তিনটি উপাদান ভাল করে মিশিয়ে নিন এরপর পান করুন সেই মিশ্রণ। সবচেয়ে ভাল ফল পাওয়া যাবে যদি রাতের খাবার খাওয়ার ঘন্টাখানেক আগে মিশ্রণটি পান করে নিতে পারেন।

এবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে তাতে বলা হয়েছে গবেষণাপত্রের দাবি, ‘কোনোরকম ব্যর্থতা ছাড়ায় এই পানীয় কোমরের চর্বি কমাবে।’

এটি আরো বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে ঘুমোতে যাওয়ার আগে কোমরের মাপ নিয়ে রাখুন। এরপর পানীয় পান করে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে উঠে আবার কোমরের মাপ নিন দেখবেন, অন্তত এক সেমি কমে গিয়েছে কোমরের আয়তন। সপ্তাখানেকের মধ্যে চোখে পড়ার মতো ফল পাওয়া যাবে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন এই প্রাকৃতিক মিশ্রণের কাজ হলো শরীরে জমে থাকা চর্বিকে গলিয়ে বর্জ্যের সঙ্গে শরীরের বাইরে বার করে দেওয়া। ফলে এই উপায়ে অতি দ্রুত হ্রাস পায় কোমরের চর্বি।

লিভারের সুস্থতায় কিছু ঘরোয়া উপায়

দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মধ্যে লিভার অন্যতম। দেহের সমস্ত ক্ষতিকর টক্সিন জমে তা শুধুমাত্র লিভারের মাধ্যমেই শরীর থেকে বের হতে পারে। আর এ লিভার যদি তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়; তাহলে আপনার শরীরে জমে যাওয়া টক্সিন শরীরেই থেকে যাবে। এতে করে দেহের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একে একে বিকল হয়ে যেতে থাকবে।

তাই লিভারের কর্মক্ষমতা স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর লিভারের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা তখনই নিশ্চিত করা যায়, যখন পেট পরিষ্কার থাকে। জেনে নিন লিভারের সুস্থতায় কিছু কার্যকর ঘরোয়া উপায়।

লেবু আর গরম পানি : বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যান্য খাবারের তুলনায় উষ্ণ গরম জলেতে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস যকৃৎ বা লিভারে অনেক বেশি এনজাইম উৎপাদনে সহায়তা করে।

এ ছাড়াও ভিটামিন সি গ্লুটেথিয়ন নামে যে এনজাইম উৎপন্ন করে, তা লিভারের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে লিভার সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। তাই অন্যান্য পানীয়ের চেয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস উষ্ণ গরম জলেতে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। এতে লিভার সুস্থ থাকবে, বাড়বে কর্মক্ষমতাও।

গ্রিন টি: গ্রিন টি-এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের ফ্রি রেডিকেল টক্সিসিটি দূর করে এবং আমাদের লিভার পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিন এক থেকে দুই কাপ গ্রিন টি পান করার ফলে লিভারে জমে থাকা টক্সিন দূর হয়ে যায় এবং গোটা শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সঠিক ভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়।

রসুন: রসুনে রয়েছে সালফারের উপাদান যা লিভারের এঞ্জাইমের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এ ছাড়াও রসুনে রয়েছে অ্যালিসিন ও সেলেনিয়াম যা লিভার পরিষ্কারের পাশাপাশি লিভারের সুস্থতা নিশ্চিত করে। তাই প্রতিদিন অন্তত এক কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কাঁচা রসুন খেতে পারলেও ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে।

পর্যাপ্ত জল পান করুন: দিনে প্রায় ৭-৮ গ্লাস (২.৫ লিটার থেকে ৩ লিটার) জল পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। আমাদের দেহের প্রায় ৭০ শতাংশই হল জল। এই জলই শরীরের টক্সিন লিভারের মাধ্যমে ছেঁকে বের করতে সহায়তা করে।

যখনই শরীরে জলের অভাব হবে, তখন লিভারে ও শরীরে টক্সিন জমতে থাকে যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেরও ক্ষতি করে। তাই লিভারের সুস্থতায় পর্যাপ্ত জল পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।