শাহজালালে এবার ১৬শ’ কেজি ‘এনপিএস’ জব্দ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইথিওপিয়া থেকে আসা ইয়াবার ন্যায় ক্ষতিকারক ১৬শ কেজি ‘এনপিএস’ (নিউ সাইকোট্রফিক সাবস্টেনসেস) জব্দ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

চালানটি গত রোববার বিমানবন্দরের কার্গো ইউনিটের অভ্যন্তরে অবস্থিত ‘ফরেইন পোস্ট অফিসের’ মাধ্যমে আসে। সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়াড ওই চালানটি আটক করে। সোমবার সিআইডির এএসপি (মিডিয়া) শারমিন জাহান ক্ষুদেবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পেরে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়াড ‘এনপিএস’ চালানটি জব্দ করেছে। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত ৩১ আগস্ট প্রথম এনপিএসের অস্তিত্ব মেলে। ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা থেকে জিয়াদ মোহাম্মাদ ইউসুফ নামে এক ব্যক্তি ঢাকায় একটি চালান পাঠান। এ দেশে নওয়াহিন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে চালানটি পাঠানো হয়। চালানটি কয়েকদিন আগে ইথিওপিয়া থেকে কয়েকটি দেশ ঘুরে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে।

এরপরই দুই দফার অভিযানে বিমানবন্দর ও শান্তিনগর প্লাজা থেকে মোট ৮৬১ কেজি এনপিএসসহ মো. নাজিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এনপিএসের আনুমানিক মূল্য এক কোটি ২৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা।

দ্বিতীয় দফায় ৬ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে আগত জেট এয়ারওয়ের ৯ডব্লিও২৭৬ ফ্লাইটে এনপিএসের চালান আসে। এরপর গোপন সংবাদে নজরদারি শুরু করে বিমানবন্দর কাস্টমস কর্মকর্তারা। পরে ফরেইন পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ১৬০ কেজি এনপিএস জব্দ করা হয়।

পণ্যগুলোর রফতানিকারকের নাম জিয়াদ মুহাম্মদ ইউসুফ। ঠিকানা বলা হয়েছে আদ্দিস আবাবা, ইথিওপিয়া। আর আমদানিকারক এশা এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে ঢাকার তুরাগ থানাধীন ব্লক-ডি, সড়ক ২ হাউস নং-২৮।

ওই একই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় রোববার আসা এনপিএসের ১৩৫ কেজির চালান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জব্দ করে ঢাকা কাস্টমস হাউজ।

বিমানবন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ইথিওপিয়া থেকে এনপিএস বা খাতের চালানটি ভারত হয়ে জেট এয়ারওয়েজ হয়ে রোববার দুপুর ২টায় শাহজালালে আসে। পরে তা ‘ফরেইন পোস্ট অফিসে’ নেয়া হয়। এনএসআইয়ের দেয়া তথ্যে সোমবার তা জব্দ করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

এনপিএসের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার বলেন, এনপিএস অপব্যবহারের পদার্থ, যা ১৯৬১ সালের প্রচলিত মাদক আইন অথবা ১৯৭১ সালের ওষুধ আইনে নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয়। যদিও জনস্বাস্থ্যের জন্য এটা প্রচণ্ড রকমের ক্ষতিকর। পণ্যটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ এর ‘খ’ তফসিলে ২ নং ক্রমিকভুক্ত, যা একই আইনের ১৯ (১) টেবিলের ১০ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, এনপিএস তৈরির উপাদানগুলো বৈধ হলেও এর ভয়াবহতার কারণে অনেক দেশ স্থায়ীভাবে এনপিএস নিয়ন্ত্রণ করছে, অনেক দেশ অস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধও করছে। এনপিএসের ব্যবহার ব্যাপকমাত্রা পেলে যুবসমাজ ধ্বংসের চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হবে।