শহিদুল আলমকে নোবেল শান্তি পুরষ্কার প্রদানে প্রস্তাব!

স্টাফ রিপোর্টার : এবার গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চিত্রগ্রাহক শহিদুল আলমকে নোবেল শান্তি পুরষ্কার প্রদানের দাবি উঠেছে। এই দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের এশিয়া প্যাসেফিক সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজ এর ইতিহাস ও সিকিউরিটি স্টাডিজ বিষয়ের সাবেক অধ্যাপক তাজ হাশমি। একটি নিবন্ধে এই দাবি জানান তিনি।

নিবন্ধের শুরুতেই হাশমি বলেন, জার্মানির গেস্টাপো স্টাইলে (দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হিটলারের কুখ্যাত সিক্রেট পুলিশ বাহিনী) বাংলাদেশ পুলিশ শহিদুল আলমকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। হাশমি আরো মনে করেন শহিদুল আলমকে অন্যায়ভাবে বিনা অপরাধে আটক করে নির্যাতন করা হচ্ছে। তিনি লিখেছেন নির্দোষ শহিদুল আলমের পাশে সারা বিশ্বের মানবাধিকার কর্মী এবং নোবেল বিজয়ীরা দাড়িয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন নোয়াম চমস্কি, অমর্ত্য সেন, জোসেফ স্টিগলিৎজ, ড. মোহাম্মদ ইউনুস, অরুন্ধতী রায়, গায়েত্রী চক্রবর্তী এবং অন্যরা। এছাড়াও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকিসহ ৩জন ব্রিটিশ এমপিও শহিদুল আলমের পাশে দাড়িয়েছেন।

হাশমি আরো লিখেছেন বিচারক শহিদুল আলমকে জামিন দেননি। আদালতে বিচারক শহিদুলের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আপনার মক্কেল খুবই ভাগ্যবান। তিনি গুমের শিকার হননি!’ আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে শহিদুল বলেছেন তাকে চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। এছাড়াও নির্যাতনের পর তার রক্তে ভেজা শার্ট তার নিজেকেই ধুতে বাধ্য করা হয়েছে।

নিবন্ধটির লেখক মনে করেন বাংলাদেশে রাজনৈতিক কারণে আটক আরো বন্দিদের সাথে শহিদুল আলমের কিছু পার্থক্য রয়েছে। শহিদুল আলমকে আটক করা পুরো দেশেরই বাক স্বাধীনতা রুদ্ধ করার সামিল। সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষেরা শহিদুলের মুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে সকল দাবি প্রত্যাখান করেছে। হাশমি মনে করেন এতো কিছুর পরেও শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করা কঠিন। এই অঞ্চলের শক্তি ভারত সরাসরি শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে। আর বাংলাদেশের প্রধান দুই অস্ত্র সরবারহকারী চীন ও রাশিয়াও এই সরকারকে সরাতে আগ্রহী নয়। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলাতে চায় না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাটের উপর হামলার পরেও যুক্তরাষ্ট্র কার্যত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সে কারণেই হাশমি মনে করেন শহিদুল আলমকে শান্তিতে আেবেল পুরষ্কার দেয়া উচিৎ। এর ফলে মত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবি বিশ্ববাসী আরো জোরালোভাবে তুলতে পারবে। একই সাথে শহিদুল আলমের মুক্তির আন্দোলন আরো ত্বরান্বিত হবে।