কেন এত সমালোচনা সিনিয়র নায়িকাদের নিয়ে?

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বঙ্গবন্ধুর আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। গণভবনে এই অতিথির সম্মানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে শিশু শিল্পী হিসেবে নৃত্য পরিবেশন করেন অঞ্জনা। তার নাচ দেখে মুগ্ধ বঙ্গবন্ধু কোলে তুলে নিলেন অঞ্জনাকে। মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে বললেন, তুমি একদিন বড় শিল্পী হবে মা। দেশ বিদেশে সুনাম কুড়াবে। সে সময় কিসিঞ্জারও নাচের প্রশংসা করেন। বঙ্গবন্ধুর কথা সত্যি হলো। অঞ্জনা সত্যিই এক দিন বড়মাপের শিল্পী হলেন। শুধু নৃত্যশিল্পী নয়, চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী হিসেবেও পেলেন জাতীয় পুরস্কার। ১৯৭৯ সালে এশিয়া মহাদেশের শ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পীর সম্মান লাভ করেন। মানে বঙ্গবন্ধুর দোয়া তার চলার পথের পাথেয় হলো। সেই ছোট্ট বেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত অঞ্জনা। ১৯৭৮ সালে ‘দস্যু বনহুর’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসা এবং ১৯৮৭ সালে জাতীয় পুরস্কারে ‘পরীণিতা’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মান পেয়েছেন। তিন শতাধিক সিনেমার নায়িকা তিনি।

নায়িকা নূতনের ছবির সংখ্যাও প্রায় তিন শতাধিক। শৈশবে গান দিয়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হলেও পরবর্তীতে নৃত্য এবং মঞ্চ অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন নূতন। প্রথম ছবিতেই তিনি সফলতা লাভ করেন। ১৯৭০ সালে তার প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তি পায় এবং তিনি এখনো অভিনয় করে যাচ্ছেন। নূতনের আরেকটি পরিচয় হল তিনি একজন সফল চলচ্চিত্র প্রযোজক। স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে প্রথম মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রশংসিত হন।

‘বেদের মেয়ে জোছনা’ খ্যাত অঞ্জু ঘোষ ২২ বছর পর বাংলাদেশে এসেছেন। আর এই নিয়ে বিএফডিসিতে রীতিমতো মিলনমেলা হয়ে গেল।

নূতন, অঞ্জনা, অঞ্জু ঘোষ- এক সময়কার জনপ্রিয় তিন নায়িকা। অনেকদিন ধরে অভিনয়ের বাইরে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের পদচারণা টের পাওয়া যায় সিনেমা জগতে। তাদের এই ফিরে আসাকে দর্শক সাধুবাদ জানায়। তবে দর্শক বিরক্ত তাদের সাজ নিয়ে। অনেকে বলছেন,‘ এমন ইউয়ার্ড ভাবে সেজে থাকে কেন? তাদের দেখলে ভয় হয়। তাদের দেখলে যে কোন সুস্থ মানুষ ও ভয় পেয়ে আবে। এক সময়ের গুনী শিল্পীদের ড্রেস আপ বা মেকাপ সেন্স এতো নিম্নমানের কেন? এদের কি কেউ বলে না কিছু? নাকি তারা ভাবে তাদের স্ট্যাইল অনেক ভালো? ফ্যাশন এক একজনের এক এক রকম হতেই পারে কিন্ত এমন রুচিহীন হলে আসলে প্রশ্ন চলে আসে।’

কিছুদিন আগে সিনিয়র কোরিওগ্রাফার আজিজ রেজার সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছিলেন নূতন ও অঞ্জন। তিনজনের সংলাপ, সাজ ও উপস্থিতি এতই বিরক্ত লেগেছে দর্শকের। যা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। সবারই এক আফসোস, আমাদের দেশের শিল্পীদের এক সময়ে এমন দশা কেন! অথচ তাদের বয়সীই বলিউড নায়িকারা ফ্যাশন কিংবা চেহারায় এখনো কেতটা গর্জিয়াস!