আশুলিয়ায় নিটারের ছাত্রীকে বাস থেকে ফেলে দেয়ায় গুরুতর আহত, ৪ বাস আটক

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়ায় ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ টেক্সটাইল (নিটার)-এর টেক্সটাইল বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী আসমা আারকে নাজেহাল ও চলন্ত বাস থেকে জোরপূর্বক ফেলে দেয়ার প্রতিবাদে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছে। তারা মহাসড়কে চলাচলরত নীলাচল পরিবহণের ৪টি বাস আটক করে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছে।


রোববার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকায় এ অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ওই ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ টেক্সটাইল শিক্ষার্থীরা নীলাচল পরিবহণের ৪টি বাস আটক রেখে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত শিক্ষার্থী-প্রশাসন বনাম পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের সমঝোতার কোন চেষ্টা সফল হয়নি। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী আসমা আক্তারকে প্রথমে গণস্বাস্থ্য হাসপাতল ও পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আসমার ডান হাত, দুই পা, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তাক্ত জখম হয়েছে। এ ঘটনায় সহপাঠী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছে।

এ ব্যাপারে টেক্সটাইল ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, আসমা রাজধানীর আজিমপুর এলাকা থেকে নয়ারহাটের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ টেক্সটাইল (নিটার) আসার জন্যে নীলাচল নামে একটি যাত্রী পরিবহণে আরোহণ করেন। পরিবহণটি শ্যামলী আসার পর ওই ছাত্রীর নিকট বাসের কন্ট্রাক্টর ভাড়া চান। এসময় আসমা তাকে শিক্ষার্থী পরিচয়ে হাফ ভাড়া ৩০ টাকা দেন। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ৫০ টাকা ভাড়া দাবি করেন।

একপর্যায়ে শিক্ষার্থী সম্মান বাঁচাতে গিয়ে ৫০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করেন। পরে নবীনগর আসার পর কন্ট্রাক্টর পুনরায় তার কাছে গিয়ে বলেন, আপনি যাবেন কোথায়? তখন সে জানায় নয়ারহাটে নিটারে। তখন সে আরো ৪০ টাকা ভাড়া দাবি করে। নবীনগর পার হলেই ৯০ টাকা ভাড়া দিতে হবে বলে সে জানায়। ওই শিক্ষার্থী কন্ট্রাক্টরের দাবি মোতাবেক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে নয়ারহাটে নামতে চাইলে তাকে নামতে বাঁধা দেয় এবং টাকা দাবি করে। তর্কবিতর্কের মধ্যে একপর্যায়ে কন্ট্রাক্টর ওই ছাত্রীকে চলন্ত বাস থেকে সড়কে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ টেক্সটাইলের শিক্ষার্থীর হাত, পা, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তাক্ত মারাত্মক জখম হয়। এসময় সহপাঠীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ টেক্সটাইল শিক্ষার্থীরা রোববার সকাল ১০টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক প্রায় ২ ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। এতে ওই সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা নীলাচল পরিবহণের ৪টি বাস আটক করে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে আটক রাখে। আহত শিক্ষার্থীর সু-চিকিৎসা ও তার ক্ষতিপূরণসহ শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ায় পরিবহণে যাতায়াতের সুযোগসহ কয়েক দফা দাবি জানায়। অন্যথায় নীলাচল পরিবহণকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলতে দেয়া হবে না মর্মেও হুঁসিয়ারি উচ্চারণ করেন শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রিজাউল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা ৪টি বাস ক্যাম্পাসে আটক রেখেেেছ। তবে মালিক-শ্রমিকদের সাথে কোন সমজোতা এখন পর্যন্ত হয়নি।