ধামরাইয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ধর্ষিতা ৪ দিন পর থানায় হাজির

ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ের গৃহবধূ মানিকগঞ্জে তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বুধবার নিজ বাড়ীতে ফেরার পথে অপহৃত হওয়ার পর ধামরাইয়ে একটি ইটভাটায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রবিবার রাতে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছে গৃহবধূ কুলসুম আক্তার। তিনি ধামরাইয়ের বাইশাকান্দা ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ি গ্রামের আবু তাহেরের স্ত্রী। মামলায় কুলসুম তার স্বামীর নাম উল্লেখ করেনি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাইশাকান্দা ইউয়িনের মঙ্গলবাড়ি  গ্রামের কুলসুম আক্তার তার বোনের বাড়ী মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা শিমুলিয়া গ্রামে বেড়াতে যান গত বুধবার। ওই দিনে নিজ বাড়ীতে ফেরার পথে তাকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে অপহরণ করে আশুলিয়ার জামগড়া দক্ষিণপাড়ার আবদুল মান্নানের ছেলে মহির উদ্দিন (৪২), কুড়গাও কবরস্থান রোডের গোলাম মোস্তাফার ছেলে আলমগীর (৩০) এবং বড়কাটিগ্রামের হযরত আলীসহ অজ্ঞাতনামা একজন। এরপর তাকে বাথুলী ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে একটি ইটভাটায় আটক করে অপহরণকারীরা পালাক্রমে দিনে ও রাতে ধর্ষণ করে। এরপর তাকে ধর্ষণকারীরা ভোর রাতে (৭ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়ার জিরাবর পুকুরপাড় এলাকায় নিয়ে ছেড়ে দেয়। এঘটনায় কুলসুম বাদি হয়ে রবিবার রাতে একটি মামলা দায়ের করে (মামলা নং ১৩)। এর আগে কুলসুম নিজেই বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে ধর্ষণের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জিয়াউল ইসলাম জানান, কুলসুম বৃহস্পতিবার সকালে থানায় এসে গণধর্ষণের অভিযোগ করলে তাকে নিয়েই ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়। এতে ইটভাটা থেকেই হযরত আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। এরপর কুলসুমকে ডাক্তারি পরিক্ষার জন্য পুলিশ দিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। এছাড়া অন্য অভিযুক্তদের ধরতে গেলে পুলিশ জানতে পারে একই আসামীদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় গণধর্ষনের অভিযোগ দেয় কুলসুম। ওই অভিযোগ আশুলিয়া থানার এস আই মাসুুদুর রহমানের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়। এ খবর জানতে পেরে পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যায় কুলসুম। পরে হযরত আলীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বের অবহেলার কারণে ধামরাই থানার কনস্টেবল আবদুর রহিম ও নারী কনস্টেবল মুক্তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।

আশুলিয়া থানার এস আই মাসুদুর রহমান জানান, প্রায় ২০ দিন আগে কুলসুম বাদি হয়ে একই ধরনের অভিযোগ দিয়েছিল আলমগীর হোসেন, মহির উদ্দিন ও শফিকুলসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে। তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তা রেকর্ডভুক্ত করা হয়নি।

রবিবার রাতে ধামরাই থানায় কথা হয় কুলসুম আক্তারের সাথে। পালানোর কারণ সম্পর্কে সে জানায়, আমি ভেবেছিলাম পুলিশ আমাকে ডাক্তারী পরিক্ষা করাবে না। তাই আমি নিজে গিয়েই ঢাকা মেডিক্যালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে মেডিক্যাল টেস্ট করিয়ে এনেছি।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, কুলসুম বাদি হয়ে গণধর্ষনের মামলা দিয়েছে। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুলসুমের স্বামী আবু তাহেরসহ কয়েকজন মিলে অন্যের জমি নিজেদের নামে ভুয়া দলিলপত্রাদি তৈরী করে জমি বিক্রির কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এদিকে জমি বিক্রয়ের নামে যাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা বায়না নিয়েছে তারা টাকা ফেরত চাইলেই ধরিয়ে দেন বিভিন্ন ব্যাংকের চেক। চেক নিয়ে ব্যাংকে গেলে ডিজঅনার হয়। এই প্রতারনার শিকার হয়েছে হযরত আলীসহ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি।

এছাড়া তাহের চক্রের সদস্য নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে ধামরাই থানায় মামলা করে আলমগীর, মহিউদ্দিন, ভুট্টো ও শফিকুলের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত হযরত আলী জানায়, চলার পথে পরিচয় হয় রাসেল ওরফে আবু তাহেরের সাথে। এরই সূত্র ধরে প্রায় এক বছর আগে আশুলিয়ার কবিরপুর এলাকায় তাহের জমি বিক্রি করবে বলে আমাকে নিয়ে যান জমি দেখাতে। জমি দেখে পছন্দ হওয়ায় এক কোটি টাকা দরদাম করে তাকে সাড়ে সতের লাখ টাকা দিয়ে লিখিত বায়নানামা করি। পরবর্তীতে জানতে পারি সে একজন প্রতারক। তার কাছে টাকা ফেরত চাইলে তাকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের চেক ধরিয়ে দেন। কিন্তু ব্যাংক থেকে চেকটি ডিজঅনার হয়ে আসে। এ নিয়ে আদালতে মামলা করি রাসেল ওরফে তাহেরের বিরুদ্ধে।