দুপুরে বিএনপির মানববন্ধন, অনশন বুধবার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে সোমবার সারা দেশে মানববন্ধন পালন করবে দলটি। একই দাবিতে আগামী বুধবার দুই ঘণ্টার প্রতীকী অনশন পালন করবে বিএনপি।

কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার একই দাবিতে দুই ঘণ্টার প্রতীকী অনশন পালন করবে বিএনপি।

ঢাকার রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গণ অথবা গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে দলটি।

এর আগে রবিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে নিঃশেষ করে দিতেই আওয়ামী লীগ সরকার তাকে চিকিৎসা না দিয়ে নিষ্ঠুর ও অমানবিক পথ বেছে নিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিষ্ঠুর রসিকতা বলেও মন্তব্য করেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কারাগারে খালেদা জিয়াকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। তার জীবন হুমকির মুখে থাকবে, আর দেশবাসী চেয়ে চেয়ে দেখবে তা হবে না। কালবিলম্ব না করে তাকে ইউনাইটেড বা অন্য কোনো বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে টালবাহানার পরিণতি ভালো হবে না।

রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বন্ধুরা, অভুক্ত রেখে, বিনা চিকিৎসায় ভোগানোর জন্য খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি রেখেছেন শেখ হাসিনা। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার ভাগ্য আদালতের ওপর নির্ভরশীল নয়, তা নির্ভর করে শেখ হাসিনার মর্জির ওপর।’

রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দেশবাসীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। খালেদা জিয়া এতটাই গুরুতর অসুস্থ যে তার বাঁ হাত ও পা প্রায় অবশ হয়ে যাচ্ছে। চলাফেরা দূরের কথা, তিনি উঠে দাঁড়াতেও পারছেন না। সাংবাদিকরা তার এ অবস্থা সচক্ষে দেখে পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। তা সত্ত্বেও গতকালও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও কারা কর্তৃপক্ষ একই সুরে বলেছেন, খালেদা জিয়া ততটা অসুস্থ নন। তারা বলেছেন, খালেদা জিয়া পূর্বে যেসব রোগে ভুগতেন, এখন সেসব রোগেই তিনি ভুগছেন। আওয়ামী লীগ নেতা ও কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে তাচ্ছিল্য করে তার জীবনকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, যা চরম অমানবিকতারই এক নিষ্ঠুর বহিঃপ্রকাশ। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে হানিফ ও কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিষ্ঠুর রসিকতা।

খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে নিঃশেষ করে দিতেই আওয়ামী লীগ সরকার তাকে চিকিৎসা না দিয়ে নিষ্ঠুর ও অমানবিক পথ বেছে নিয়েছে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক এবং সবশেষে আইনজীবীরা তাকে বাঁচানোর জন্য অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতাল অথবা বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু এখনো সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গণবিচ্ছিন্ন হতে হতে জনগণের কাছ থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। সে জন্য একমাত্র পুলিশই আওয়ামী সরকারের ‘লোকাল গার্ডিয়ান’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ নামক ‘পুলিশ রাষ্ট্রটি’ এখন শাসিত হচ্ছে এমন এক ব্যক্তির দ্বারা, যার ক্রোধানলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়েই দেশের নিয়ন্ত্রণ মজবুত রাখতে চাচ্ছেন। দেশজুড়ে চলছে এখন গায়েবি মামলার ছড়াছড়ি। মৃত ব্যক্তিকেও এখন ককটেল ছুড়ে মারতে দেখছে পুলিশ। সরকার কী অদ্ভুত বাহিনীতে পরিণত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।