খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের ‘নালিশ’ গ্রহণ করেছেন প্রধান বিচারপতি

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি করতে কারাগারের ভেতরে স্থাপিত বিশেষায়িত আদালতের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের কাছে নালিশ করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তিনি নালিশ গ্রহণ করে বিষয়টি দেখবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেছেন। রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন। এর আগে কারাগারের ভেতরে বিশেষ আদালত স্থাপনের বিষয়ে নিজেদের আপত্তির কথা প্রধান বিচারপতিকে জানান এ আইনজীবীরা।
জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা মনে করেছি দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও সংবিধানের অভিভাবক সুপ্রিম কোর্ট। আর সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবক হলেন প্রধান বিচারপতি। তাই কারাগারের ভেতরে আদালত স্থাপনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা না করে এ ধরনের কোনও প্রজ্ঞাপন সরকার জারি করতে পারে না। তাই এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত করে আমরা বলেছি, ‘প্রধান বিচারপতি আপনি বিচার বিভাগের অভিভাবক। আমরা মনে করি, মাসদার হোসেন মামলার মধ্য দিয়ে আপনার সুপ্রিমেসি ও সুপ্রিম কোর্টের সুপ্রিমেসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আপনার সঙ্গে আলোচনা ছাড়া রাতের অন্ধকারে গেজেট করে এ ধরনের আদালত স্থাপন হতে পারে না।’
তিনি জানান, প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা প্রধান বিচারপতি ধৈর্য সহকারে আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। তিনি (প্রধান বিচারপতি) তার ক্ষমতাবলে এ বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘হঠাৎ করে রাতের বেলা আইন বহির্ভূতভাবে জেলখানার একটি কক্ষকে কারাগার হিসেবে পরিগণিত করে একটি অস্থায়ী আদালত স্থাপন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের বিধান থাকলেও সেটি করা হয়নি। বিষয়টি আমরা প্রধান বিচারপতিকে জানিয়েছি।’
জয়নুল আবেদীন অভিযোগ করে বলেন, ‘গত তারিখে (জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানিতে) অসুস্থ অবস্থায় জোর করে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। বলতে গেলে খালেদা জিয়া বসতে পারেন না, দাঁড়াতে পারেন না, হাঁটতে পারেন না। এ অবস্থায় তাকে হাজির করা হয়েছে। আইনজীবীদের কোনও জুডিশিয়াল নোটিশ পর্যন্ত করা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে একটি জুডিশিয়াল আদেশ দিয়ে আইনজীবীদের একটি নোটিশ করতে হয়, সেই নোটিশ পর্যন্ত করা হয়নি। যেহেতু এটি ওপেন ট্রায়ালও না, সেই কারণে আমরা সেখানে উপস্থিত হতে পারিনি। একই কারণে এই আদালত আবার ১২ সেপ্টেম্বর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।’
বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমরা মনে করেছি সংবিধানের অভিভাবক হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। আর সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবক হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি। সুতরাং এই ধরনের গেজেট নোটিফিকেশন ১৯ (বি) চ্যাপ্টার ১ সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ হাইকোর্ট রুলস ১৯৭৩ অনুসারে এটি সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা না করে এই ধরনের কোর্ট স্থাপনের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে না। এই কথাগুলো আমরা (প্রধান বিচারপতিকে) বলেছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতিকে আমরা বলেছি, আপনার সঙ্গে আলোচনা না করে রাতের অন্ধকারে এই ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি বিচার বিভাগের জন্য খুবই দুঃখজনক। কোনও বিচারালয় এইভাবে স্থানান্তর করা যায় না। প্রধান বিচারপতি আমাদের কথা শুনেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধান বিচারপতি আমাদের আবেদন গ্রহণ করেছেন। আমরা আশাবাদী। তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’
লিখিত আবেদনে প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা আপনার কাছে অনুরোধ করছি, যারা বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং যে বিচারিক কর্মকর্তা তার বিচারিক সীমা লঙ্ঘন করেছেন- তাদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) ১৯৭৩ বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
এর আগে, রবিবার দুপুরে (৯ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মীর নাছির, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদলসহ বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। এ সময় তারা লিখিতভাবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ভালো না উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি হাঁটতে পারেন না, যা সরকারও স্বীকার করেছে। তবুও সরকার তার যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি।’