কাকরাইলে তাবলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৫

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর কাকরাইলে তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে হজ শেষে সৌদি আরব থেকে ফিরে মাওলানা সাদপন্থী তাবলীগের মুরুব্বিরা কাকরাইল মসজিদে প্রবেশ করতে গেলে বাধাঁর মুখে পড়েন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাকরাইল মসজিদের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ কারণে রোববার সতর্কভাবে ফজর জোহোর, অসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ওলামা, তলাবা, মুবাল্লিগদের দেখা মেলেনি। যাদের চিল্লা শেষ হয়েছে তারাও রিপোর্ট করতে আসেনি এই মসজিদে। সবাই সহিংসতার আতঙ্কে রয়েছেন।
জানা যায়, শনিবার এশার নামাজের পর নিয়ম অনুযায়ী মসজিদের পাহারা দিতে গেলে মাওলানা সা’দ অনুসারীদের বাধা দেন হেফাজত সমর্থক তাবলীগ সমর্থকরা। এসময় কথা কাটাকাটি আর দ্বন্দ্বের জেরে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে সেখানে কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত ও আটকে রাখার অভিযোগ করেন সা’দ অনুসারীরা। তবে মাওলানা সা’দ অনুসারীরাই বার বার উসকানি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেয়া হেফাজত সমর্থক তাবলীগ সদস্যরা। ঘটনার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মসজিদের বাইরে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করেন সা’দ অনুসারীরা। দোষীদের গ্রেপ্তার এবং মাদ্রাসা সরিয়ে দেয়ার দাবিতে রাতভর অবস্থান নেন তারা।
মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের অভিযোগ, শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন মুরব্বি ও সাথীরা হজে গিয়েছিলেন। শনিবার রাতে এশার নামাজের পর তারা কাকরাইল মসজিদে প্রবেশ করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন। এ সময় কাকরাইল মসজিদের ভেতরে ছিলেন সাদবিরোধী পক্ষের মুরব্বি মাওলানা যোবায়ের। কাকরাইল মসজিদের ভেতরের মাদ্রাসার ছাত্ররা ও বহিরাগতরা এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় মাওলানা মনির বিন ইউসুফ ও মোহাম্মদ উল্লাহসহ কয়েকজন আহত হয় বলে দাবি করেছেন সাদ অনুসারিরা।
এ প্রসঙ্গে মাওলানা আব্দুল্লাহ বলেন, রাতে মসজিদের ভেতর থেকে কিছু লোক এসে মুরব্বিদের ওপর হামলা চালায়। তাদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয়। হজ শেষে তারা দেশে এসে এ পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, খবর শুনে রাতেই কয়েকশ মুনল্লি কাকরাইল এসে জড়ো হয়। তারা এই হামলার প্রতিবাদ করে রাস্তায় অবস্থায় নেয়। রাতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। দু’পক্ষেকে নিয়ে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে সবাই সার্কিট হাউজ মসজিদে গিয়ে ইবাদত করে রাত কাটান। বর্তমানে উভয় পক্ষের মুসল্লিরা আতঙ্কে রয়েছেন। আবারও যেকোন সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা তাদের।
এদিকে পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।